করবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে কর ব্যবস্থা অটোমেশনের কোনো বিকল্প নেই। আর এ ক্ষেত্রে কর কর্মকর্তাদের দুর্নীতিই বড় বাধা বলে মনে করছে বাংলাদেশ ভ্যাট প্রফেশনালস ফোরাম বা ভ্যাট ফোরাম। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে দেওয়া এক বাজেট প্রস্তাবনায় সংগঠনটি এ কথা বলেছে।
এ বিষয়ে সংগঠনটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা এনবিআরের কাছে অনেকগুলো প্রস্তাব প্রস্তাবনা আকারে জমা দিয়েছি। সবগুলো আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমরা বারবার একটি কথা বলেছি, সেটি হলো, ভ্যাট ব্যবস্থা শতভাগ অটোমেশনের আওতায় আনা।
তিনি বলেন, অটোমেশন ব্যবস্থা যদি পুরোপুরি কার্যকর করা যায়, সেক্ষেত্রে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আসলে মন্ত্রণালয়ে ও এনবিআরের এক শ্রেণির কর্মকর্তারাই চান না যে ভ্যাট ব্যবস্থা পুরোপুরি অটোমেশনের আওতায় আসুক। ফলে হয়রানি বন্ধ হচ্ছে না।
সংগঠনটি বলছে, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে স্মার্ট ভ্যাট সিস্টেমের বিকল্প নেই। স্মার্ট ভ্যাট সিস্টেম হবে এমন সিস্টেম, যেখানে আইনকানুন, বিধিবিধান হবে সহজ ও স্বচ্ছ; ভ্যাটদাতাদের মধ্যে থাকবে কর সংস্কৃতি; ভ্যাট সংগ্রহকারীদের মধ্যে
থাকবে সুশাসন; আর থাকবে একটা ইনটিগ্রেটেড তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো এবং সবশেষে থাকবে একটা দক্ষ, নৈতিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেমসম্পন্ন পেশাদার শ্রেণি। যে সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রেতা ক্রয় করার সময় রিয়েল টাইমে অনলাইনে বিক্রেতাকে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন এবং সরকারকে ভ্যাট পরিশোধ করতে পারবেন।
ভ্যাট ফোরামের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এক দশক ধরে রাজস্ব খাতের সংস্কারের কথা বলে আসছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই থেকে শুরু করে বিভিন্ন চেম্বার ও পণ্যভিত্তিক বাণিজ্য সংগঠন। তখন এসব সংস্কার করলে এখন অন্তত আইএমএফের শর্তের বেড়াজালে পড়তে হতো না। করবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে করব্যবস্থার অটোমেশনের কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে কর কর্মকর্তাদের দুর্নীতিই বড় বাধা।
অসৎ কর্মকর্তারাই অটোমেশনের বিরুদ্ধে কাজ করেন। তারা মনে করেন, অটোমেশন হলে তাদের অবৈধ আয় কমে যাবে। তাই, যে কোনো মূল্যে কর ব্যবস্থাকে পুরোপুরি অটোমেশন করতে হবে। এটি তখনই কার্যকর হবে, যখন কম্পিউটারের পেছনে কোনো মানুষ থাকবে না। একটা ফাইল একজন কর্মকর্তা একবারই দেখবেন। তাহলেই টেবিলের নিচ দিয়ে অবৈধ লেনদেন বন্ধ হবে।
ভ্যাট ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রস্তাবে সংগঠনটি বলছে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ভূমিকায় উদ্দেশ্য ছিল চারটি। উদ্দেশ্যগুলোকে সামনে রেখে বাংলাদেশের ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও রাজস্ব-বান্ধব, ব্যবসা-বান্ধব, শিল্প-বান্ধব, বিনিয়োগ-বান্ধব এবং সর্বোপরি জন-বান্ধব করার প্রয়াসে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের প্রাক্কালে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ এবং এর আওতায় এসআরও আদেশে সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন, পরিমার্জন, সন্নিবেশের জন্য বাংলাদেশ ভ্যাট প্রফেশনালস ফোরাম (ভ্যাট ফোরাম) এর পক্ষ থেকে মোট ১১৬টা প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।
