ফাহিমার শেষ ওভারে ২৯ রান নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ২১৩/৭

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪, ০১:৫১ পিএম

নিগার সুলতানা জ্যোতির টসজয়, অসাধারণ অধিনায়কত্ব, স্পিনারদের দাপট এবং মিরপুরের আবহাওয়া ও উইকেট। সবমিলিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের যে ঘোষণা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল তার ঝলক মিলল। ৭ উইকেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ করতে পেরেছে ২১৩ রান।

ম্যাচে ৪৯ ওভার বাংলাদেশ দাপট দেখালেও শেষ ওভারটি নিজেদের করে নেয় অস্ট্রেলিয়া। ফাহিমা খাতুনের ওই ৬ বলের চারটিকেই উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করেন অ্যালানা কিং। শেষ ওভারে আসে ২৯ রান। তাতে ৩১ বলে ক্যারিয়ারসেরা ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন কিং।

আরেক প্রান্তে তবে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ এতোদূর টেনে আনেন আইসিসির ফেব্রুয়ারি মাসের সেরা খেলোয়াড় অ্যানাবেল সাদার‌ল্যান্ড। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে তিনি অপরাজিত থাকেন ৭৬ বলে ৫ চারে ৫৮ রান করে। অষ্টম উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ৬৭ রানের ইনিংস সর্বোচ্চ জুটি।

এর আগে পুরো গল্পে রাজত্ব বাংলাদেশের স্পিনারদের। যার শুরু সুলতানাকে দিয়ে। মেঘলা আবহাওয়ায় অধিনায়কের সিদ্ধান্ত আরও যথার্থ প্রমাণ করেন অফস্পিনার সুলতানা খাতুন। নিজের প্রথম বলেই তুলে নেন ফিবি লিচফিল্ডের উইকেট। দারুণ ডেলিভারিতে ব্যাকফুটে যাওয়া ফিবিকে বোল্ড করেন সুলতানা। গোল্ডেন ডাকের শিকার হয়ে ফেরেন লিচফিল্ড।

নিজের তৃতীয় ওভারে এসে শিকার করেন উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে প্রথম শিরোপা এনে দেওয়া বিধ্বংসী ব্যাটার এলিস পেরিকে। পেরির ব্যাটের কানায় লেগে যাওয়া বলটি কিপার জ্যোতির গ্লাভস মিস করলেও ঠাই পায় স্লিপে থাকা রাবেয়া খানের মুঠোয়। ১০ বল খেলে মাত্র ২ রানেই ফেরেন পেরি।

হিলির উইকেট শিকার করেন মারুফা

পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই নবম ওভারে অজি অধিনায়ক অ্যালিসা হিলির উইকেট শিকার করেন মারুফা আক্তার। টানা ভালো বোলিংয়ে রান আটকে রাখা মারুফার গুড লেন্থের বলটি হিলির ব্যাট ছুয়ে জ্যোতির গ্লাভসে গিয়ে থামে। ৩৯ বলে ৩ চারে ২৪ রানে ফেরেন হিলি। অস্ট্রেলিয়া তিন উইকেট হারায় ২৭ রানেই।

দলীয় ৪৮ রানে নাহিদা আক্তার ফেরান তালিয়া ম্যাকগ্রাকে। ২০ বল খেলে ৯ রান করা তালিয়াকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন নাহিদা। চাপে পড়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার হাল ধরেছিলেন বেথ মুনি। ৬৩ বল খেলে ফেলেছেন, ক্রিজে একদম সেট। সেই অবস্থায় নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই মুনির উইকেট শিকার ফাহিমা খাতুনের। ‍উল্লাসে ফেটে পড়াটাই স্বাভাবিক বাংলাদেশের। কেননা ৭৮ রান তুলতেই যে অজিদের অর্ধেক ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরানো হয়ে গেছে।

লিচফিল্ডকে গোল্ডেন ডাকের স্বাদ দেন সুলতানা

মুনি আউট হওয়ার আগে করেন ২৫ রান। ২৭ রানে ৩ উইকেট হারানো অজিদের টানছিলেন তিনিই। ৬৪ বলের ইনিংসে বাউন্ডারি মারেন মাত্র একটি। মুনি ক্যাচ দিয়েছেন জ্যোতিকে। ফাহিমা ভাঙেন মুনি-গার্ডনারের ৩০ রানের জুটি। ৮৩ রানে সোবহানা মোস্তারি অ্যাশলে গার্ডনারের ক্যাচ না ফেললে আরও একটি উইকেট শিকার হতো ফাহিমার।

অস্ট্রেলিয়ার ১১২ রানের সময় অ্যাশলে গার্ডনারকে ফিরিয়ে অজিদের ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন নাহিদা আক্তার। নাহিদার বলে স্টাম্পিং হওয়ার আগে গার্ডনার করেন ৩২ রান। ওই উইকেট দিয়ে সালমা খাতুনকে (৫২) টপকে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে যান নাহিদা। ১০ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট, তবে শেষের ঝড়ে কিছুটা ম্লান হয়ে যায় সে পারফরম্যান্স। 

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী এখন নাহিদা

তার পর কার্যকর জুটি গড়ছিলেন অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড ও জর্জিয়া ওয়্যারহ্যাম। মাঝে নাহিদা একবার খলনায়কও বনে যান। ১৩৫ রানের সময় ক্যাচ ফেলেন সাদারল্যান্ডের। স্বর্ণার উইকেট পাওয়ার সেই আক্ষেপ দূর করেন রাবেয়া খান। প্রথম স্লিপে তার দুর্দান্ত ক্যাচে উইকেট পেয়েছেন স্বর্ণা। ফেরান ২১ বলে ১২ রান করা ওয়্যারহ্যামকে। তাতে ভাঙে দুজনের ৩৬ রানের জুটি।

অস্ট্রেলিয়ার ৭ উইকেটের পতন হয় ১৪৬ রানে। সেখান থেকে সংগ্রহটা দুশো ছাড়ান সাদারল্যান্ড-কিং জুটি।  শেষ ওভারে গিয়ে ফাহিমার তো অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটাও হয়ে গেছে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার আয়াবঙ্গো খাকার ১ ওভারে ২৮ রান তুলেছিলেন ভারতের হারমানপ্রীত কৌর ও স্মৃতি মান্ধানা। 

টাইগ্রেসদের মধ্যে ২টি করে উইকেট শিকার সুলতানা ও নাহিদার। ১টি করে উইকেট নেন মারুফা, স্বর্ণা ও ফাহিমা। প্রত্যাশা আর নৈপুণ্যের মিশেলে অজিদের আরও কম রানে আটকাতে পারতো বাংলাদেশ। তবে এই রান টপকাতে হলে রেকর্ড গড়তে হবে বাংলাদেশকে। ওয়ানডেতে এর আগে কখনো ২১০ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি জ্যোতি-ফারজানারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত