‘ডাক্তার জয়ন্তী রানীকে আপনারা চেনেন না’

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৪, ১০:১৬ এএম

রোগীর সাথে অসদাচরণ ও ব্যবস্থাপত্র ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে জয়ন্তী রানী ধর নামে একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি। একপর্যায়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (২২ মার্চ) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ব্যক্তিগত চেম্বারে সাংবাদিকদের সাথে এঘটনা ঘটে।

এসময় তার স্বামী মন্ত্রীর কাছের লোক বলেও সাংবাদিকদের রীতিমতো ভয় দেখান। এছাড়াও তার স্বামীর ছোট ভাই ডিআইজি বলেও সাংবাদিকদের হুমকি দেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

রোগী স্বজন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসক জয়ন্তী রানীর কাছে যান দুর্গাপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মো. জামাল তালুকদার। তবে চেম্বারে দূর থেকে রোগী দেখার সময় রোগীর স্বজনরা কাছ থেকে রোগী দেখার কথা বলতেই ক্ষিপ্ত হন জয়ন্তী রানী। একপর্যায়ে চেম্বার থেকে বের হয়ে আসতে বাধ্য হন স্বজনরা। তাৎক্ষণিক স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক তার চেম্বারে প্রবেশ করতেই রীতিমতো তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় চিকিৎসক জয়ন্তী রানী তার ব্যক্তিগত চেম্বারে বসে সাংবাদিকদের সাথে চিৎকার-চেঁচামেচি করছেন। তিনি চেম্বারে বসেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলতে থাকেন- দুর্গাপুরের সব সাংবাদিকদের আমার চেনা আছে। এর আগেও ময়মনসিংহে কেউ কিছু করতে পারেনি। ডাক্তার জয়ন্তী রানীকে আপনারা চেনেননি। আমি তিন মাস থেকেই ময়মনসিংহ থেকে চলে গেছি। যা আর কেউ পারেনি। আপনারা আমার চেম্বারে আসার সাহস পেয়েছেন কোথাও থেকে। আমি এখনই ডিআইজিকে ফোন দিচ্ছি।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, ডাক্তার জয়ন্তী রানী অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য রীতিমতো এক আতঙ্কের নাম। নিয়মিতই রোগীদের সাথে অশালীন আচরণ করেন তিনি। ভালো কোনো গাইনি চিকিৎসক না থাকায় বাধ্য হয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীরা তার কাছে যান। সিজারিয়ান করতে গিয়ে রোগী ও নবজাতক হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জয়ন্তী রানী ধর একসময় দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে থাকলেও বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে কর্মরত। প্রতি শুক্রবার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গাইনি চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখেন। জনপ্রতি তিনি ভিজিট নেন হাজার টাকা। দেশের যে প্রান্তেই থাকেন না কেন গেল ৯ বছর ধরে ছুটির দিনগুলোতে শুধু দুর্গাপুরে তিনি রোগী দেখেন। পাশাপাশি আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়মিত সিজারও করেন তিনি। কারণ, দুর্গাপুর তার কাছে আলাদিনের চেরাগ!

২০২২ সালের ১২ আগস্ট শুক্রবার সিজার অপারেশনের পরপরই এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠে জয়ন্তী রানী ধর এর বিরুদ্ধে। এর পর তিনি টাকার বিনিময়ে তা আপস-মীমাংসা করেন। ওই ঘটনার  নিহত প্রসূতি চম্পা আক্তার উপজেলার গাওকান্দিয়া ইউনিয়নের ফুরকান মিয়ার স্ত্রী। এছাড়াও এই রকম অভিযোগ অহরহই রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু তিনি ক্ষমতাবান হওয়ায় রোগীর কেউ তার বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস পায় না।

সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণের বিষয় স্বীকার করে জয়ন্ত রানী বলেন, তখন আমি উত্তেজিত ছিলাম। আচরণের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত