প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের দুর্দান্ত শুরুর পর ম্যাচ নিজেদের পক্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিস। দ্বিতীয় দিনেও লঙ্কানদের ৫ উইকেট তুলে নেওয়া, তৃতীয় দিনের শুরুতেই উইকেট পাওয়ার পর আবারও এ দুজন বাংলাদেশের দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ালেন।
এক টেস্টে একই দলের দুই ব্যাটসম্যানের জোড়া সেঞ্চুরির ঘটনা ক্রিকেট ইতিহাসে এই নিয়ে তৃতীয়বার ঘটল। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছে দুইবার। প্রথমবার ১৯৭৪ সালে ওয়েলিংটনে, অস্ট্রেলিয়া–নিউজিলান্ড টেস্টে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই টেস্টে এই কীর্তি গড়েছিলেন দুই ভাই ইয়ান চ্যাপেল ও গ্রেগ চ্যাপেল। দ্বিতীয় ঘটনা ২০১৪ সালে, অস্ট্রেলিয়া–পাকিস্তান টেস্টে। সেই ম্যাচে পাকিস্তানের আজহার আলী ও মিসবাহ–উল হকের দুজনেই করেছিলেন জোড়া সেঞ্চুরি।
পার্থক্য শুধু এই যে প্রথম ইনিংসে কামিন্দু আগে পৌঁছেছিলেন তিন অঙ্কে। দ্বিতীয় ইনিংসে লঙ্কান অধিনায়ক ধনঞ্জয়া। প্রথম ইনিংসে দুজন জুটি গড়েছিলেন ২০২ রানের, দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭৩ রানের। ধনঞ্জয়ার সেঞ্চুরির পর চা বিরতিতে যাওয়ার আগের ওভারে শান্তর বলে চার মেরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কামিন্দু।
দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ওই একটিই, ধনঞ্জয়ার উইকেট। ক্যারিয়ারের ১২তম সেঞ্চুরি করার পর ১০৮ রানে মিরাজের বলে মিড উইকেটে জাকিরে হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ধনঞ্জয়া। ১৭৯ বলের ইনিংসে ৯টি চারের সঙ্গে হাঁকান ২টি ছক্কা। নতুন বল নেওয়ার পর ধনঞ্জয়ার ক্যাচ ফেলেন তাইজুল। তার আগে স্টাম্পিং করার ব্যর্থ প্রচেষ্টার মাঝে তার গ্লাভসে লাগা বলে আবেদনই করেনই লিটন।
কামিন্দু তার ক্যারিয়ার ও ম্যাচের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১৭১ বলে। ১০০ রানে অপরাজিত থেকে বিরতিতে গেছেন তিনি। শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৭ উইকেটে ৩৩৮ রান। লিড ৪৩০ রানের। চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ৪১৩ রান। যা মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে করেছিল বাংলাদেশ। মোহাম্মদ আশরাফুলের সেঞ্চুরি ও সাকিব আল হাসানের ৯৬ রানের ইনিংসে ওই রান করার পরও বাংলাদেশ টেস্টটি হেরেছিল ১০৭ রানের ব্যবধানে।
ধনঞ্জয়া-কামিন্দু টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় জুটি হিসেবে একই টেস্টের দুই ইনিংসে দেড়শ পেরোনো জুটি গড়েছেন। ১৯৩৮ সালে ইংল্যান্ডের এডি পেয়েন্টার ও পল গিব প্রথম এ কীর্তি গড়েন। আর ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার ও জো বার্নস দুই ইনিংসেই দেড়শ পেরোনো জুটি উপহার দেন।
কামিন্দু গড়েছেন আরও অনন্য এক কীর্তি। সাত নম্বর কিংবা এর পরে ব্যাটিংয়ে এসে এক টেস্টের দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করা প্রথম ক্রিকেটার এখন তিনি।
