চরে ঘাস খেতে হয়েছে আমাকে

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৪, ১২:১৯ পিএম

২০১২ সালে নৃত্য প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ‘সেরা নাচিয়ে’তে অংশ নিয়ে হয়েছিলেন রানার্সআপ। এরপর নাচের পাশাপাশি নাটক ও বিজ্ঞাপনে কাজ করে আসছিলেন। ঈদে চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন মন্দিরা চক্রবর্তী। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘কাজল রেখা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এই অভিষেক, আর এটাকে বেশ সম্ভাবনাময় মনে করছেন তিনি। এই চলচ্চিত্রে কাজ ও নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে মন্দিরার মুখোমুখি হয়েছেন মাহতাব হোসেন

ঈদে চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে। চিত্রনায়িকা হিসেবে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন পুরো বিষয়টি কেমন লাগছে?

বলতে পারেন একেক সময় একেক রকম লাগছে। কখনো বেশ আনন্দময় ব্যাপার মনে হচ্ছে, আবার কখনো ভয় কাজ করছে। মানে একধরনের মিশ্র অনুভূতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এখন অপেক্ষায় আছি, দর্শকদের অনুভূতি বোঝার জন্য। দর্শকরা কীভাবে নিচ্ছে, সেটা দেখার জন্য।

আপনি অভিনয় করেছেন, আপনার আত্মবিশ্বাস কেমন?

আমার আত্মবিশ্বাস তো শতভাগ। আমরা যেভাবে কাজ করেছি, এই চার শ বছরের গল্প উঠিয়ে আনা তো সহজ কাজ নয়। আমরা সময়ে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। সর্বোচ্চ ত্যাগ করেছি, আমি দর্শকদের জায়গায় দাঁড়িয়ে বলব, এটা একটা দুর্দান্ত কাজ হয়েছে। এ ছাড়া অনেকেই বলছেন এ ছবিটি মনপুরার পর গিয়াস উদ্দিন সেলিমের দ্বিতীয় আলোচিত সিনেমা হতে যাচ্ছে। আপনারা তো জানেন মনপুরা কী পরিমাণ মানুষ দেখেছে। আমি আশা করছি, মনপুরার পর গিয়াস উদ্দিন সেলিমের তেমনই আলোচিত ছবি হতে যাচ্ছে।

কাজল রেখা সিনেমা তো দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে শুটিং হয়েছে। হয়েছে অনেক নিরীক্ষণ। ছবির শুটিংয়ে গিয়ে কোনো প্রতিবন্ধকতা, চ্যালেঞ্জ কিংবা মনে রাখার মতো কোনো অভিজ্ঞতা হয়েছে কি না, যদি বলেন?

বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা হয়েছে। বলে শেষ করা যাবে না। কখনো আমি এত কষ্ট করিনি, যতটা করতে হয়েছে কাজল রেখার শুটিংয়ের সময়। তীব্র রোদে বিস্তীর্ণ চরের মধ্য দিয়ে হেঁটে গেছি। শুয়ে থেকেছি চরের মধ্যে, নদীতে নেমে বসে ছিলাম। আগে যা কল্পনাও করিনি, সেই সব কাজ করতে হয়েছে। খেতে হয়েছে ঘাস...

বলেন কী, ঘাস খেয়েছেন?

শুধু ঘাস না, ঘাস খেয়েছি। সেই ঘাসের মধ্যে বালু, বালুসহ ঘাস খেয়েছি। এমন অজস্র অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেসব বললে দীর্ঘ সময় লাগবে।

যা-ই হোক, গিয়াস উদ্দিন সেলিম নির্মাতা হিসেবে আপনার কাছে কেমন। তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা?

তিনি চমৎকার একজন মানুষ। দারুণ দক্ষ নির্মাতা। কাজল রেখা চলচ্চিত্রের জার্নিতে তাকে আমি দেখেছি, কী পরিমাণ পরিশ্রম করতে পারেন, মেধার প্রয়োগ করতে পারেন। আর আমার একজন অভিনয়শিল্পী হয়ে ওঠাটা সম্পূর্ণ গিয়াস উদ্দিন সেলিমের হাতে। তিনি আমাকে সম্পূর্ণভাবে গড়েছেন। আমার শিল্পী হয়ে ওঠাটা তার কাছে, তার কাছেই শিখেছি অভিনয়ের ছোট ছোট পাঠ। তার ধৈর্য ও পরিশ্রম করার ক্ষমতা আমাকে বিস্মিত করেছে।

কাজল রেখার সঙ্গে আপনার যোগসূত্র হলো কীভাবে?

সেটা মহামারীর সময়ের কথা। গিয়াস উদ্দিন সেলিম ভাইয়ের সঙ্গে নানা কথা হতো। সবই হচ্ছে তার মাথা থেকে বেরোনো গল্প নিয়ে। আজ এটা নিয়ে তো কাল ওটা নিয়ে কথা হচ্ছে। মহামারী শেষের পরে সেলিম ভাই আমাকে ডাকলেন অডিশনের জন্য। অডিশন দিলাম। তারপর জানালেন কাজল রেখার জন্য আমাকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না। জানতাম না যে এই চলচ্চিত্রের জন্যই আমাকে নির্বাচিত করা হয়েছে। কেননা আমার সঙ্গে অনেক গল্প নিয়ে কথা হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত