চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক। সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় তারা ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং তার স্ত্রী রবেকা সুলতানা তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
বিমানবন্দরে রাষ্ট্রীয় অতিথিদের লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল তাদের গার্ড অব অনার দেয়। জানা গেছে, জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুকের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও রয়েছেন মন্ত্রীসভার সদস্য ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আছেন।
গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন করার পর এটিই প্রথম কোনো বিদেশি অতিথির রাষ্ট্রীয় সফর। রাজা নামগিয়েল ওয়াংচুক জাতীয় সংগীতের পর বিমানবন্দরে সশস্ত্র বাহিনীর কুচকাওয়াজও পরিদর্শন করেন। বিমানবন্দরে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর রাজা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যান।
রাজা মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ করবেন।
সোমবার বিকালে রাজা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক করবেন। তারা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক (ওয়ান টু ওয়ান) করবেন। বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে তিনটি নতুন সমঝোতা স্মারক সই হবে এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সংক্রান্ত আরও একটি সমঝোতা স্মারক নবায়ন করা হবে। রাজা ও প্রধানমন্ত্রী সমঝোতা স্মারক সই প্রত্যক্ষ করবেন।
আগামীকাল মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবসের ভোরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করবেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার। সকালে শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করবেন তিনি। বিকালে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাতের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বুধবার (২৭ মার্চ) পদ্মা সেতু পরিদর্শনে যাবেন ভুটানের রাজা। পরে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন পরিদর্শনে যাবেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে।
বৃহস্পতিবার সকালে (২৮ মার্চ) কুড়িগ্রামে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করতে পরদিন বিমানে ঢাকা ত্যাগ করবেন ভুটানের রাজা।কুড়িগ্রামের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকালে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করবেন তিনি। সেখানে গার্ড অব অনার দেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাকে বিদায় জানাবেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
