শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অসুস্থ নেতায় ভারাক্রান্ত বিএনপি

স্থায়ী কমিটির চারজন শারীরিক কারণে নিষ্ক্রিয়, আটজনই ৮০ ছুঁইছুঁই

  • কাউন্সিল হয় না আট বছর
  • ভাইস চেয়ারম্যান পদের সাতজনই নিষ্ক্রিয়, সক্রিয় পনেরোজনের বেশিরভাগেরই বয়স ৭০-৮০
আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৪, ১২:০৫ পিএম

সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু ১৯৮৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তার বয়স এখন ৫৪ বছর। তিনি যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৪ সালে টুকু যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন তখন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি। এখনো একই পদে রয়েছেন ড. খন্দকার মোশাররফ। অসুস্থতার কারণে একেবারেই নিষ্ক্রিয় এ নেতা এখন বাসায় চিকিৎসাধীন।

খন্দকার মোশাররফের মতো বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ নেতার বয়স ৭০ থেকে ৯০ বছর। একই অবস্থা দলটির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদেও। এসব পদের প্রায় ৯০ ভাগ নেতাই বয়স্ক। এ ছাড়া প্রায় অর্ধেক পদ নানা কারণে ফাঁকা। আর টুকুর মতো বিএনপির সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রায় সব নেতার বয়সই ৫৫ থেকে ৬০ ছুঁই ছুঁই।

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর নেতারা বেশি বয়সী ও অসুস্থ হওয়ায় কার্যত তারা নিষ্ক্রিয়। ফলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলে রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ ও বুদ্ধি-পরামর্শের ক্ষেত্রে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে নিয়মিত সম্মেলন না হওয়ায় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে নতুনদের দায়িত্বে আনার সুযোগও হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, দলটির ভেতরে ও বাইরে আরও আলোচনা হলো, বিএনপিকে এগিয়ে নেওয়ার মতো প্রজ্ঞা বা কর্মকৌশল প্রণয়নের সক্ষমতা দলটির নেতাদের মধ্যে থাকলেও ধীরে ধীরে ধার কমে যাচ্ছে। যে কারণে এক-এগারোর পর থেকে বিপাকে পড়া দলটির সংকট থেকে বেরিয়ে আসার মতো কোনো কর্মকৌশল নিতে পারেনি। উপরন্তু দীর্ঘদিন একই পদে পুরনো নেতারা আঁকড়ে থাকায় দলটির সাংগঠনিক কাঠামোও যে দিন দিন আরও দুর্বল হচ্ছে, সেটি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

বিএনপিতে এমন আলোচনাও শুরু হয়েছে, তারুণ্যনির্ভর রাজনীতিতে ফিরতে পারছে না দলটি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে যে কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলেন, বর্তমান চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তা টেনে নিয়েছেন। বর্তমান রাজনীতিতে দিকনির্দেশনা, বৈচিত্র্যের সমন্বয় না করতে পারায় তরুণরা বিএনপির রাজনীতি এড়িয়ে চলছেন কি না, সে প্রশ্নও দলটির মধ্যে উঠেছে। তরুণদের অভাবে বয়োজ্যেষ্ঠরাই ছাত্রদল, যুবদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সত্তরোর্ধ্ব মূল দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকড়ে থাকায় রাজনীতির কৌশল এবং দল পরিচালনার ক্ষেত্রে দক্ষতা ও বিচক্ষণতার অনুপস্থিতি দেখা যাচ্ছে বলেও আলোচনা উঠেছে। বলা হচ্ছে, এসব কারণে দল পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। বিশেষ করে তরুণদের আকৃষ্ট করতে একাধিক কর্মসূচির পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা সফলতার মুখ দেখেনি।

বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও শ্রমিক দল। আর অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, কৃষক দল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল, ওলামা দল, জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক দল (জাসাস) ও মহিলা দল। গত এক যুগে এসব সংগঠনের কমিটি পর্যালোচনা করলে সমস্যা ও ঘাটতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

নিজেদের বয়সের কথা জানিয়ে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান বারবার জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত সোমবার নয়াপল্টনে মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে তিনি বলেছেন, ‘আমি বৃদ্ধ মানুষ হয়ে গেছি। হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভাইও আমার চেয়ে বড়। আমরা এখনো লড়ছি, কথা বলছি, লড়ে যাচ্ছি। ছাত্রদলের নেতারা এখানে যারা আছেন এভাবে শুধু স্লোগান দিলে হবে না। ইনফেন্ট্রি (পদাতিক বাহিনী) যদি শক্তিশালী না হয়, তাহলে যুদ্ধ কে করবে?’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামিনে মুক্তি পান মির্জা ফখরুল। মুক্তি পাওয়ার পর গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছিলেন, আমৃত্যু রাজনীতি করতে চান তিনি। তবে সবকিছু নির্ভর করবে শারীরিক অবস্থার ওপর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বয়স কোনো বিষয় নয়। বিগত ওয়ান-ইলেভেনের সময় দলের মহাসচিব হিসেবে খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বার্ধক্য নিয়েও যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সে সময় তরুণ নেতারা তার মতো দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল শারীরিক নানা সমস্যা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এখনো দায়িত্ব পালন করতে চান। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনকার তরুণ প্রজন্ম সাহস নিয়ে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে নামেন না। বরং বুড়োদের দিকে তাকিয়ে থাকেন।’

একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেখা গেছে, যখন শীর্ষ নেতৃত্বকে অপেক্ষাকৃত জুনিয়রদের সহযোগিতা করার কথা, সেখানে সিনিয়র নেতারা মাঠে ছিলেনই না। অসুস্থতা ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তাদের উপস্থিতি রাজপথের কর্মসূচিতে কমছে। হরতাল পিকেটিংয়ের মতো কর্মসূচিতে তারা মাঠে একেবারেই থাকেন না। সক্রিয় নেতাদের বেশিরভাগ কারাগারে থাকলে বাকিরা নিজেদের আড়ালে রাখেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কমিটির বেশিরভাগ নেতা এ তালিকায় রয়েছেন।

আড়ালে থাকা নেতাদের বিষয়ে বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করে জানান, গত বছর ২৮ অক্টোবরের সমাবেশের পর নতুন কর্মসূচি দেওয়ার জন্য ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শীর্ষস্থানীয় এক নেতাকে ফোন করে সারা দিনেও পাননি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। পরে দলের একজন যুগ্ম মহাসচিবকে ফোন দিয়ে সেই বার্তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যে আন্দোলন হয়েছে, তার কোনো পর্যায়ে ওই নেতা মাঠে নেমেছেন এমন খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকা দক্ষিণের নেতৃত্ব বা দপ্তর থেকেও কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও গণমাধ্যমে পাঠানো হয়নি। নির্বাচন শেষে গত মাসে তিনি প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে এসে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল বিএনপি। গত আট বছরে আর কাউন্সিল করা হয়নি। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তিন বছর পর কাউন্সিল করার কথা বলা আছে। ফলে দলের নেতৃত্ব যে অবস্থায় ছিল এখনো সেই অবস্থায় আছে।

দলীয় তথ্য বলছে, স্থায়ী কমিটির ১৯টি পদের মধ্যে ৫টি শূন্য, চারজন অসুস্থতায় নিষ্ক্রিয়। বাকি ১০ জনের মধ্যে আটজনই ৮০ বছর ছুঁই ছুঁই। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ ভাইস চেয়াম্যানেরও একই অবস্থা। ৩৭টি ভাইস চেয়ারম্যান পদের ১৫টিই শূন্য। আর সাতজনই নিষ্ক্রিয়। বাকি ১৫ জনের অধিকাংশের বয়সও ৭০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের ৮২টি পদের মধ্যে ২২টি শূন্য রয়েছে।

বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে চেয়ারপারসনের দায়িত্বে থাকা খালেদা জিয়ার (পদাধিকারবলে) বয়স ৭৯ বছর। দুর্নীতির মামলায় শর্ত সাপেক্ষে জামিন পাওয়া খালেদা জিয়া নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে বাসায় চিকিৎসাধীন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও পদাধিকার বলে স্থায়ী কমিটির সদস্য। তার বয়স ৭৭ বছর। স্থায়ী কমিটিতে সবচেয়ে বেশি বয়স ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের, ৯৩ বছর। বাকিদের মধ্যে মির্জা আব্বাস ৭৩, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ৭৪, ড. আবদুল মঈন খান ৭৭, নজরুল ইসলাম খান ৭৬, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ৮৩, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ৮১, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৭৫, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ৭৪ ও সেলিমা রহমানের বয়স ৭০ বছর। কম বয়সীদের মধ্যে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৫৯ ও সালাহউদ্দিন আহমেদ ৬১।

তথ্য বলছে, স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আ স ম হান্নান শাহ এবং এম কে আনোয়ার মারা গেছেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ইকবাল হাসান মাহমুদ বিদেশে অবস্থান করছেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থ। ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের খুব একটা দেখা মেলে না। এ ছাড়া রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান। যদিও তার পদত্যাগপত্র বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান কোনোটিই করা হয়নি।

অন্যদিকে ৩৭ জন ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে ষষ্ঠ কাউন্সিলের সময় ৩৫টি পদ ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১০ জন মারা গেছেন। তিনজনের পদত্যাগ ও দুজন বহিষ্কার, বিদেশে দুজন পলাতক, একজন অসুস্থ এবং কারাগারে রয়েছেন তিনজন। ফলে ভাইস চেয়ারম্যানের ১৫টি পদ শূন্য। সাতজন নিষ্ক্রিয়।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে থাকা নেতাদের মধ্যে যারা মারা গেছেন তারা হলেন বিচারপতি টিএইচ খান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাদেক হোসেন খোকা, অধ্যাপক এমএ মান্নান, আবদুল মান্নান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ও ব্যারিস্টার আমিনুল হক।

পদত্যাগকারী চারজন হলেন এম মোর্শেদ খান, মোসাদ্দেক আলী ফালু ও ইনাম আহমদ চৌধুরী। বহিষ্কৃত দুজন হলেন ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ও শওকত মাহমুদ। বিদেশে পলাতক কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, গিয়াস কাদের চৌধুরী, ড. ওসমান ফারুক ও আবদুস সালাম পিন্টু (সাজাপ্রাপ্ত)। আর রাবেয়া চৌধুরী অসুস্থ। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সেলিমা রহমান দলের স্থায়ী কমিটিতে চলে গেছেন। বাকিদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান (৭৯), মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (৮০), এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী (৮০), শামসুজ্জামান দুদু (৬৮), হারুন আল রশীদ (৮৪), বরকত উল্লাহ বুলু (৬৮), মোহাম্মদ শাহজাহান (৭২), আবদুল আউয়াল মিন্টু (৭৫), নিতাই রায় চৌধুরী (৭৫) এ বয়সেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ ছাড়া মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীনের বয়সও ৭০ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবর রহমান সরোয়ার, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হারুন অর রশীদ ও আসলাম চৌধুরীর বয়স ৬০ বা তার কিছু বেশি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন, বিএনপির প্রধান দুই নেতার অনুপস্থিতিতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা নেতৃত্বের দুর্বলতা কাটিয়ে তুলতে সক্ষম হননি। আবার এটাও সত্য যে, দলের সব সিদ্ধান্তের জন্য তারেক রহমানের ওপর নির্ভর করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে বয়সী এ নেতারা কতটুকু দলের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, সেটা বিবেচনায় নিতে হবে বিএনপিকে।

বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে দলের সপ্তম কাউন্সিলের মাধ্যমে স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব আনার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে জিয়াউর রহমানের মতো তরুণদের আকৃষ্ট করার মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে না পারলে যে লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি এগোতে চাচ্ছে, সেটি পূরণ নাও হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক শিক্ষক নুরুল আমিন বেপারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে প্রত্যেক দলের উচিত রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা। তরুণদের পরামর্শ দিতে বয়োজ্যেষ্ঠদেরও কাজে লাগানো উচিত।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বছর ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সমাবেশ পন্ড হওয়ার পর থেকে সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি আদায়ে বিএনপি যে আন্দোলন সংগ্রাম করেছে তার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্দোলন সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিলেন বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের যেসব নেতা রয়েছেন, তাদের সামনের সারিতে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে দলের হাইকমান্ড। এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব উপহার দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি তুলনামূলক তরুণদের বিভিন্ন পদে পদায়ন করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে সবদিক থেকে সক্ষম নেতাদের নিয়ে আসার উদ্যোগ রয়েছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত