শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বক্ষেত্রে জামায়াতের অনুসারী বেশি: কুবি উপাচার্য

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ০৯:০০ পিএম

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বক্ষেত্রে জামায়াতের অনুসারীদের আধিক্য রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ সিনিয়র পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারী স্বাধীনতার মূল্যবোধের বিপক্ষের আদর্শের অনুসারী ছিলেন। স্থানীয় প্রভাবশালীরা আদর্শের পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বক্ষেত্রে জামায়াতের অনুসারীদের আধিক্য রয়েছে। রবিবার (৩১ মার্চ) একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন। 

এ সময় তিনি আরও বলেন, এদের অনেকেই বর্তমানে দুই দলে ভাগ হয়ে আওয়ামী লীগের লেবাস ধরেছে। দুইটি বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠন করে রাজনীতি করছে। এদের মধ্যে নেতৃত্বে রয়েছে ছাত্র অবস্থায় সরাসরি জড়িত শিবিরের সাথী কাজী কামাল, ফয়জুল ইসলাম ফিরোজ, শামীমুল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান, রেল নাশকতার মামলার আসামির ভাই ড. আবু তাহের এবং বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা ব্যক্তিরা। তারা বিভিন্নভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। 

উপাচার্যের এমন বক্তব্যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। উপাচার্য এহেন মন্তব্য শিক্ষকদের জন্য হেয়কর। যখনই শিক্ষকরা উপাচার্যের সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতায় বাধা প্রদান করেছেন তখনই তিনি নিজের অনিয়ম, দুর্নীতিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের নামে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। একজন উপাচার্য হয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নামে মিথ্যাচার করছেন। যা শিক্ষকদের জন্য অবমাননাকর। 

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, উপাচার্য গণমাধ্যমে যে বক্তব্য দিয়েছেন এটা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। উপাচার্যের এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বরং  উপাচার্য নিজেই টেন্ডারবাজিতে লিপ্ত এবং নিয়োগে বিএনপি-জামায়াতকে সহযোগিতা করছেন। মার্কেটিং বিভাগের একজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন যার বাবা ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার বন্ধু। তিনি যাকে প্রক্টর নিয়োগ দিয়েছেন সে ২০১১ সালের আগ পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।  

এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত