তথ্য চাইতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড পাওয়া দেশ রূপান্তরের শেরপুরের নকলা উপজেলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানাকে অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তথ্য কমিশনের তলবে আজ মঙ্গলবার হাজির হয়েছেন নকলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া উম্মুল বানিন।
আজ সকাল সোয়া ১০টায় তিনি তথ্য কমিশনের কার্যালয়ে হাজির হন তিনি। বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তথ্য কমিশনের কার্যালয়ে তার ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা রয়েছে।
তথ্য কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, আজ (২ এপ্রিল) তাকে (ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিন) হাজির হতে বলা হয়েছিল। এটা যেহেতু সরকারি আদেশ, তাই তাকে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাংবাদিককে কারাদণ্ডের ঘটনায় সমালোচিত এই ইউএনওকে গত ২৩ মার্চ তলব করে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছিল তথ্য কমিশন।
উল্লেখ্য, গত ০৫ মার্চ ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা একটি সরকারি প্রকল্পের তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেছিলেন সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা। এ সময় আবেদন প্রাপ্তির অনুলিপি চান তিনি। এ নিয়ে অসদাচরণের অভিযোগে ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিনের নির্দেশনায় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাবুল আরিফের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে রানাকে দণ্ডবিধির দুটি ধারায় ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তাকে পুলিশ ডেকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ধারাবাহিক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। দেশের বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি সাংবাদিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠনও রানার মুক্তির দাবিতে বিবৃতি দেয়।
ওই ঘটনা অনুসন্ধানে গত ৯ মার্চ তথ্য কমিশনের সদস্য সাবেক জেলা ও দায়রা জজ শহিদুল আলম শেরপুরে যান। তিনি কারাগারে রানাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজার বিরুদ্ধে আপিল ও জামিনের পর গত ১২ মার্চ কারামুক্ত হন রানা। ১৬ এপ্রিল শেরপুর জেলা প্রশাসনে আপিলের ওপর শুনানির দিন নির্ধারণ আছে।
