সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের মান আর টেস্টের মধ্যে অনেক পার্থক্য: মুমিনুল

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৫৫ পিএম

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দুই দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন দলের বোলিং ও ব্যাটিং কোচ। তারা এসে প্রকাশ করেছিলেন উচ্চাশা। তবে দলের খেলোয়াড়রা পারেননি মাঠের খেলায় তার কোনো ছাপ রাখতে। গতকাল জাকিরের পর আজ এসন মুমিনুল হক। দুই খেলোয়াড়েরই কথার সুর একই, মেনে নেওয়া নিজেদের দায়।

তবে মুমিনুল আজ তুলে ধরেছেন তেতো সত্যগুলো। বিপিএল শেষে টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে সিরিজ খেলেই বাংলাদেশ নেমে পড়ে টেস্ট খেলতে। দলে নতুন যারা যোগ দেন তারাও আসেন ওয়ানডে ফরম্যাটে ডিপিএল খেলে। লম্বা সংস্করণে প্রস্তুতির ঘাটতি দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণ হতে পারে বলে মনে করেন মুমিনুল।

বলেন, ‘হতে পারে অনেক দিন পরে টেস্ট খেলছি। আপনার কাছে এটা একটা অজুহাত হতে পারে। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, আপনার তো সমস্যা হয়নি? আমার সমস্যা হয়নি। কিন্তু যারা খেলছে, তারা বেশির ভাগ সাদা বলে খেলে আসছে। এটাই বাস্তব। জিনিসটা নেতিবাচক হতে পারে। কিন্তু নেতিবাচক হলেও কিন্তু অনেক সময় সত্য হয়।’

গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের আগে বাংলাদেশ টেস্ট দলের খেলোয়াড়েরা এসেছিলেন জাতীয় ক্রিকেট লিগ খেলে। মুমিনুল সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজ আমরা আরও দু-তিন মাস আগে খেলেছি। এর ভেতরেও অনেকে জাতীয় লিগ খেলছে।’

টেস্টে ধারাবাহিকতার অভাব মেটাতে অভিজ্ঞদের প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা বাধ্যতামূলক করার প্রসঙ্গ এলে মুমিনুল জানান, ‘আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মান আর টেস্ট ক্রিকেটের মান কি এক?’ নিজে উত্তরও দেন পরে, ‘শুনতে খারাপ লাগবে, কিন্তু আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট ও টেস্ট ম্যাচ খেলার মধ্যে অনেক পার্থক্য। আকাশ–পাতাল তফাত। আপনারাও জানেন। আমিও জানি। সবাই জানে। এটা অজুহাত নয়। আমি নিজেও জাতীয় লিগ খেলি। এখানে (টেস্টে) যে ধরনের চ্যালেঞ্জ সামলাতে হয়, সেখানে তা হয় না। আমার কথা হয়তো অন্যদিকে চলে যাচ্ছে। কিন্তু আমি সততার জায়গা থেকে কথাগুলো বলছি।’

শুনতে তেতো শোনালেও দেশের ক্রিকেটের এ চিত্রটাই সত্য। এর পরও টেস্টের প্রতি তরুণদের নিবেদনে আশাবাদী এ অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান, ‘এখন যারা আছে, সবাই টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি নিবেদিত। সত্যি কথা বলি, ফল না এলে অনেক কিছুই মনে হয়। কিন্তু এখন যে তরুণ দলটা আছে, তাদের টেস্ট খেলার প্রতি খুবই আগ্রহ, খুবই নিবেদিত। যারা আছে, সবাই জাতীয় লিগে নিয়মিত খেলে।’

গত দুই বছরে টেস্ট অভিষেক হওয়া জাকির হাসান, মাহমুদুল হাসান জয় ও শাহাদাত হোসেনের কথা আলাদা করে বললেন সাবেক টেস্ট অধিনায়ক, ‘ওদের একটা জিনিস ভালো, ওরা অনেক নিবেদিত। ওদের মধ্যে ক্ষুধা অনেক বেশি। জয় আর দীপু অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড়। চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় হওয়া কিন্তু এত সহজ নয়। ওদের মধ্যে সেই নিবেদন সব সময় দেখি। ওরা সেট হয়ে আউট হওয়ার পরও বা ৫০ রান করে আউট হলে ড্রেসিংরুমে দেখলে বোঝা যায় আসলে ওর ক্ষুধা আছে কি নেই। এই জিনিসগুলো ওদের ভেতর আছে। ওদের নিবেদনে কোনো সমস্যা নেই। ওরা যত টেস্ট খেলবে, তত অভিজ্ঞ হবে, তত ভালো খেলার সুযোগ বেশি থাকবে।’

৩ উইকেট হাতে রেখে ২৪৩ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্যের জন্য কাল শেষ দিনে মাঠে নামবেন মিরাজ ও তাইজুল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত