ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে প্রেমিকাসহ এক দোকান কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা, লালবাগ বিভাগ। দোকান থেকে চুরি হওয়া ৩৩ লাখ টাকার মধ্যে ৩১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয় তাদের কাছ থেকে।
গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সাঈদ আহমেদ ও তার প্রেমিকা মোসা. রিতা।
পুলিশ জানিয়েছে, সাঈদ আহমেদ একজন ধর্মান্তরিত মুসলিম। আগে তার নাম ছিল প্রদীপ কুমার বিশ্বাস। বাড়ি গাইবান্ধার সদর থানায়। তার ঘরে দুই স্ত্রী আছে। প্রথম স্ত্রীর নাম বাইতুন্নেছা লতা, দ্বিতীয় স্ত্রী বিউটি আক্তার। স্ত্রীদের রেখে দোকানের টাকা চুরি করে রিতাকে নিয়ে ভারত পালাচ্ছিলেন সাঈদ।
উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, রাজধানীর ইসলামপুরে নাশওয়ান ফ্যাশন নামে কাপড় বিক্রির একটি দোকানে চাকরি করতেন সাঈদ। শুক্র ও শনিবার কাপড় বিক্রির ৩৩ লাখ টাকা জমা ছিল দোকানের লকারে। রবিবার সকালে সাঈদ আরেক কর্মচারীকে নিয়ে কাছাকাছি ঢাকা ব্যাংকে টাকা জমা দিতে যান। পথে কর্মচারীকে দোকানে ফেরত পাঠিয়ে একাই প্রবেশ করেন ব্যাংকে। ব্যাংকের মধ্যে কিছু সময় ঘোরাঘুরি করে ব্যাগ ভর্তি ৩৩ লাখ টাকা নিয়ে চলে যান গাজীপুর, প্রেমিকা রিতার কাছে। তাকে নিয়ে প্রথমে যান নরসিংদী, সেখান থেকে বগুড়া। বগুড়ায় অনেক কেনাকাটা করে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্দার তেঁতুলিয়ায়, সেখান থেকে প্রেমিকার বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুরে ঘুরতে থাকেন তারা। গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালী জোনাল টিম সদরপুরে অভিযান চালিয়ে সাঈদ এবং রিতাকে গ্রেপ্তার করে।
উপপুলিশ কমিশনার জানান, ট্রাংক ও মাটিতে গর্ত করে লুকিয়ে রাখা ৩১ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সাঈদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, প্রেমিকাকে বিয়ে করে ঘুরে বেড়ানোর জন্যই সে টাকা চুরি করেছিল। গ্রেপ্তারের ভয়ে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্দা দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। সেখান দিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়ে যশোর দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সে কারণেই ফরিদপুরে আসে তারা।
সাঈদ আরও জানিয়েছেন, রিতাও বিবাহিত। তবে স্বামীর থেকে আলাদা থাকেন। নরসিংদীর পাঁচদোনা এলাকায় একটি গার্মেন্টে কাজ করেন। টাকা চুরি করতে সাঈদের সঙ্গে রিতাও পরিকল্পনায় ছিল।
ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ‘ভয়ে’ সাতক্ষীরা মেডিকেল বন্ধ ঘোষণা
প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট শিক্ষার্থীদের খোলা চিঠি