চাঁদ-সূর্যের উপাখ্যান
নিতান্তই বালিকার মতো মেঘের নেকাব
পরে অন্ধকারে ডুবে গেল চাঁদ এই
দৃশ্যে পাহাড়ের পাদদেশে কতিপয়
চন্দ্রপ্রেমিক দুচোখে পূর্ণ করে
নীল ঘন হিম!
তবু আকাক্সক্ষার আলোকেরা
অনায়াসে বল্লমের মতো ফুটো করে
রাতের শরীর...
গড়িয়ে গড়িয়ে নামে তরল বিষাদ
অতঃপর সূর্যোদয় ঘটে।
শিরোনাম নেই
একা যাবো।
আয়োজনে আছি।
চোখের দরোজা খুলে
হুটহাট ঢুকে পড়ে স্মৃতির ছুরিকা।
প্রজাপতি এসো : শুরু হবে মোমের ক্ষরণ
অস্থির বসতে আছে জল, রক্ত, নীলাভ মাছির মথ,
স্নেহজ কণিকা, বরফের সাদা সুখ,
বোধের বেলুন...
যেতে হবে।
আয়োজনে আছি।
যাই।
সূর্য, সখা ওগো তুমি
প্রচ্ছন্ন প্রদোষে কেন বেহায়া ব্যাকুল?
নিকষ ওড়না ঢাকে চোখের পাথর।
কমলা, এই উদরে
বুঝিনি, রূপকথা রূপ
ডাকিনী, রাজকুমারী
পমেটম কী অপরূপ
সবই যে ইচ্ছে তাঁরই
কমলা, এই উদরে...
শিশুদের ঘুম ভেঙে যায়
ডাকিনী হলুদ ঘোরে
জনপদ, বিবেক কাঁপায়
সময়ের উৎসমুখে
কাঁদে কে আত্মরতি?
মেঘ-মেঘ ঋদ্ধ বুকে
প্রণীত অসঙ্গতি...
বোধিমূল খাই চিবিয়ে
আমি কি পাথর নাকি?
বেদনা বিকিয়ে দিয়ে
তোলেনি পেটখোরাকি!
কবি তুই, তোকেই বলি :
আমি নই অন্ধকারের...
কবি হে, কুসুমকলি
যেতেছি মৃত্যু দ্বারে
প্রতিভাষ চংক্রমণে
নিশিদিন মুগ্ধ আছি
লৌকিক পর্যটনে
আমি নই, দুধের মাছি
এসেছি, ডুবসাঁতারে
সম্মুখে প্রখর দুপুর
সূর্য, অন্ধকারে...
শোনে কি কালের নূপুর?
আচানক, রক্তক্ষরণ...
জাগরণ ভোর-সকালে
কী ভীষণ কনক বরণ
রোদ্দুর, অন্তরালে
নক্ষত্র, কীর্তিনাশা
ধাবমান আর কত দূর?
বোঝ নাই পক্ষী-ভাষা
পাঁজরের বিমূর্ত সুর!
তথাপি, দারুণ প্রলয়
ভয়ানক হলুদ ঘোরে
প্রতিদিন জয়-পরাজয়
কমলা, এই উদরে...
