রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

উদ্ধার হননি ব্যাংক ম্যানেজার নেজাম

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:২৩ এএম

বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংকের শাখা লুটের আগে শাখা ব্যবস্থাপককে (ম্যানেজার) খুঁজতে পাশের মসজিদে যায় অস্ত্রধারীরা। সেখানে তারাবি নামাজরত মুসল্লিদের অস্ত্রের মুখে ঘিরে রাখে তারা। মুসল্লিদের মধ্যে থেকে ব্যাংকের শাখা ম্যানেজার নেজাম উদ্দিনকে শনাক্ত করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার এক দিন পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার করতে পারেনি তাকে। এদিকে স্বামীর অপহরণের খবরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নেজাম উদ্দিনের স্ত্রী মাইছূরা ইসফাত।

নেজাম উদ্দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়তেন ফরেস্ট্রি বিভাগে। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় তাদের বাড়ি।

চার ভাই চার বোনের মধ্যে নেজাম পঞ্চম।

মঙ্গলবার রাতে রুমার ঘটনা জানার পর গতকাল বুধবার সকালে চট্টগ্রামের কর্মস্থল থেকে রুমা উপজেলা সদরে ছুটে যান নেজাম উদ্দিনের ছোট ভাই পুলিশের এএসআই মিজানুর রহমান।

গতকাল দুপুরে মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনো ভাইয়ের কোনো সন্ধান পাইনি। সকালে এসেছি। এখনো ভাইয়ের কোনো সংবাদ নেই। প্রশাসন বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো কিছুই জানানো হয়নি।’

স্থানীয় লোকজনের বরাতে মিজানুর বলেন, ‘রাতে রামু উপজেলা কম্পাউন্ডের মসজিদে ভাইয়া অন্যদের সঙ্গে তারাবির নামাজ পড়ছিলেন। সন্ত্রাসীরা মসজিদে ঢুকে অনেককে মারধর করে ব্যাংকের ম্যানেজার কে তা জিজ্ঞেস করে। পরে ভাইয়াকে নিয়ে চলে যায়।’

অপহৃত নেজাম উদ্দিনের স্ত্রী মাইছূরা ইসফাত বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের প্রভাষক। এ দম্পতির এক ছেলে। প্রথম শ্রেণিতে পড়া ছেলেকে নিয়ে তারা রুমা উপজেলা সদরে থাকতেন।

মাইছূরা ইসফাতের মোবাইল ফোনে কল করা হলে স্বজন পরিচয় দিয়ে এক নারী বলেন, ‘স্বামীর অপহরণের খবরে ইসফাত শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছে। আমরা নেজামের কোনো খবর পাইনি। প্রশাসন কখন জানাবে সে অপেক্ষায় আছি।’

রুমা উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘তিন রাকাত নামাজ শেষ না হতেই দেখলাম আশপাশ ও সামনে অস্ত্র নিয়ে অনেকে দাঁড়িয়ে আছে। তারা মসজিদে ঢুকে সবাইকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে অস্ত্রধারীরা ব্যাংকের ম্যানেজারের কথা জিজ্ঞেস করে। প্রথমে তাকে চিহ্নিত করতে না পারলেও পরে তাকে চিহ্নিত করে তুলে নিয়ে যায়।’

মসজিদে ২০ জনের মতো দুর্বৃত্ত প্রবেশ করেছিল। তাদের হাতে আধুনিক অস্ত্র ছিল বলে জানিয়েছেন ইমাম। অস্ত্রধারীরা মুসল্লিদের কোনো কথা বলার সুযোগ দেয়নি। তবে কয়েকজন মুসল্লি অভিযোগ করেছেন, তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এদিকে নেজাম উদ্দিনকে অক্ষত উদ্ধার এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার দাবিতে গতকাল বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে রুমা উপজেলা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদ। উপজেলা পরিষদ এলাকায় এই মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি সুকান্ত দেব, সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত বড়ুয়া প্রমুখ।

রুমা উপজেলা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের সভাপতি সুকান্ত দেব বলেন, ‘আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত