বিশ্বে গত ৩০ বছরে যত ত্রাণকর্মী মারা গেছে, গাজা উপত্যকায় তারচেয়ে বেশিসংখ্যক ত্রাণকর্মীকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এইড ওয়ার্কার সিকিউরিটি ডাটাবেজের (এডব্লিউএসডি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস হামলা চালায়। এরপর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২০৩ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিষয়টি ‘বিবেকবর্জিত’ অভিহিত করেছেন।
গত সপ্তাহে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়, বিশেষ করে ছিটমহলের উত্তরাঞ্চলে জাতিসংঘের ত্রাণকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন গুতেরেস।
গত মঙ্গলবার মার্কিন খাদ্য দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন (ডব্লিউসিকে) জানিয়েছে, সোমবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় তাদের ৭ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ফিলিস্তিন ছাড়াও মার্কিন-কানাডিয়ান দ্বৈত নাগরিক ছিলেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, হামলার পর তারা অন্তত ৪৮ ঘণ্টার জন্য তাদের কর্মীদের রাত্রিকালীন চলাচল স্থগিত রাখছে।
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেবাস্তিয়ান ফিসার বলেন, বার্লিন আশা করে ইসরায়েল তাদের অভিযান চালাবে যাতে বেসামরিক লোকজন আরও সুরক্ষিত থাকে৷ বিশেষ করে নারী ও পুরুষ ত্রাণকর্মীদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য৷ ইসরায়েলের উচিত এই ভয়াবহ ঘটনার দ্রুত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা।
কানাডা ডব্লিউসিকে ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং পূর্ণ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ ঘটনায় ইসরায়েলের কাছে জবাবদিহিতা চেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীও।
অপরদিকে এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র অ্যাড্রিয়েন ওয়াটসন বলেন, ত্রাণকর্মীদের অবশ্যই সুরক্ষা দিতে হবে।
এছাড়া পোল্যান্ড তাদের একজন নাগরিকসহ ত্রাণকর্মীদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। দেশটি পবিত্র রমজান মাসে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সকল বাধা অপসারণের দাবিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত একটি প্রস্তাবের কথা স্মরণ করে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার জন্য ইসরায়েলের ‘ইচ্ছা এবং সামর্থ্য’ উভয়ই রয়েছে। গাজায় অনেক বেসামরিকের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা ইসরায়েলকে জরুরি ভিত্তিতে কী ঘটেছে তা তদন্ত করতে বলছি। কারণ কিছু প্রশ্ন রয়েছে যার উত্তর দেওয়া দরকার।
