মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এক কৃষককে গালমন্দ করে বের করে দেওয়ার ঘটনার জেরে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. সালাউদ্দিন সুজনকে দিনাজপুর বদলি করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় সচেতনমহল ও উপজেলা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) দুপুরে কৃষক ফজলুর রহমান (৬৫) পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত একগুচ্ছ বোরোধান নিয়ে পরামর্শ চাইতে কৃষি অফিসে যান। কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভুক্তভোগী কৃষককে সমস্যা সমাধান না দিয়ে উল্টো তাকে গালমন্দ করে অফিস থেকে বের করে দেন। এ সময় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগ দেন অফিসের অন্য স্টাফরাও। একপর্যায়ে কৃষক ফজলুর রহমানকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়।
‘আমরা কৃষক মানুষ আমাদের টাকায় আপনাদের বেতন হয়, আপনি কেন জমিতে যাবেন না? এটা তো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ফজলুর রহমান এমন কথা বললে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি কি আপনার কামলা দেই? আপনি কি দেশের প্রেসিডেন্ট হয়ে গেছেন। আপনি বললেই মাঠে যেতে হবে। যা পারেন করেন গা। আপনি বেরিয়ে যান। যদি বয়স্ক লোক না হতেন তাহলে আপনাকে দেখে নিতাম’।
এ ঘটনা ভুক্তভোগী কৃষক দুই সাংবাদিককে জানালে তারা ফজলুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় কৃষি অফিসে যান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদারের কক্ষে গিয়ে সাংবাদিকরা কৃষকের এই অভিযোগের বিষয়টি জানান। এ সময় সাংবাদিকদের সামনেই রাজিয়া তরফদার ওই কৃষকের সঙ্গে ধমকের স্বরে কথা বলেন।
এ সময় সাংবাদিকরা কৃষকের অভিযোগের বিষয়ে শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদারের কাছে অফিসিয়াল বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, কৃষকের অভিযোগ শুনেছি। যদি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কোনো দোষ থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে পত্র-পত্রিকা, টিভি ও অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ হলে ঘটনা তদন্তে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দুই সদস্যের কমিটি গঠন করে। এতে বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক পিপি মো. শহিদুল ইসলাম ও অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ মামুন ইয়াকুব রয়েছেন।
এ ছাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার রাজিয়া তরফদার স্বাক্ষরিত চিঠিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সালাউদ্দিন সুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। বুধবার নোটিশ পেয়ে উত্তর দেওয়ার কোনো সুযোগ না দিয়েই উপ-পরিচালক (প্রশাসন-অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুল হাই স্বাক্ষরিত পত্রে মানিকগঞ্জ অঞ্চলে কর্মরত সালাউদ্দিন সুজনকে দিনাজপুর অঞ্চলে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। একই সূত্রে বৃহস্পতিবার সুজনকে ছাড়পত্র দিয়ে ৭ এপ্রিল দিনাজপুরে যোগদানের জন্য মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়।
উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সালাউদ্দিন সুজন দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি নিরাপরাধ। সেদিন কৃষক পোকায় খাওয়া ধানের চারা নিয়ে অফিসে আসছিলেন। আমি তার সমস্যা জানতে চাইলে তিনি জেলা অফিসারের মোবাইল নম্বর চান। তার সমস্যার সমাধান দিতে চাইলে তিনি জেলা অফিসারের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। পরে তিনি উত্তেজিল হয়ে কথা বলতে শুরু করেন এবং বাজে ব্যবহার করেন।
তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম ও উপজেলা কৃষি অফিসার রাজিয়া তরফদার জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
