একটা সময় নাট্য নির্মাতারা স্বপ্ন দেখতেন বা কল্পনা করতেন ঢাকার বাইরে ভিন্ন ভিন্ন মনোরম লোকেশনে নাটকের দৃশ্যায়ন করার। দুই দিনে চার দেয়ালে বন্দি ঘরে চল্লিশ মিনিটের নাটক দেখতে দেখতে দর্শক যখন বোরিং ফিল করতেন, গল্পে, লোকেশনে নতুনত্ব খুঁজে না পেতেন তখনই নির্মাতারা নতুন কিছু করার চিন্তায় বের হলেন বন্দি ঘর থেকে। এখন নাটকের শুটিং হয় সিনেমাটিক আয়োজনে, ঢাকার বাইরের চোখ জুড়ানো লোকেশনে। শুধু তাই নয়, ভালো কিছু উপস্থাপনের লক্ষ্যে দুই দিনের নাটক এখন পাচ-ছয় কিংবা আট-দশ দিনেও হচ্ছে।
সম্প্রতি ‘রূপকথা’ শিরোনামে নতুন একটি ঈদের নাটকের শুটিং শেষ করলেন নির্মাতা জাকারিয়া সৌখিন। বাগেরহাট, ঢাকা এবং কক্সবাজারে টানা দশ দিন শুটিংয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এর কাজ। নির্মাতার ভাষ্যে, একটা সময় আমরা নির্মাতারা স্বপ্ন দেখতাম যদি বাজেট একটু বাড়তো তাহলে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সুন্দর সুন্দর লোকেশনে নাটকের শুটিং করা যেত, যেটা আসলে সিনেমায় হয়। নাটকে সেটা সম্ভব হতো না বাজেটের কারণে। কিন্তু এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে। বিশাল বড় পরিসরে এখন নাটক নির্মাণ করা যাচ্ছে, যেটা এক সময় শুধু কল্পনা ছিল।
জাকারিয়া সৌখিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবার ঈদে তো খুব বেশি কাজ করিনি। মাত্র দুটি নাটকের শুটিং করেছি, সেটাও সময় নিয়ে। ‘রূপকথা’র শুটিং করেছি ১০ দিনে। বলতে পারেন ছোট খাটো একটা যুদ্ধ শেষ করলাম। গল্পের প্রয়োজনে বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং করতে হয়েছে। নাটক আগে চার দেয়ালে বন্দি ছিল। সেখান থেকে আউটডোরে শুটিং শুরু। আর এখন একই নাটকে বাগেরহাট, ঢাকা এবং কক্সবাজার। নিঃসন্দেহে বাংলা নাটকের ইতিহাসে এটা দারুণ একটা ব্যাপার। আমরা সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছি। আর এটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র দর্শকের ভালোবাসার জন্য। এভাবেই যেন মুক্ত বাতাসে গল্প বলতে পারি। আরো বড় ক্যানভাসে নাটক নির্মাণ করতে পারি।
তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টার কারণে যেটা হবে অন্যরাও এটাতে উদ্বুদ্ধ হবে ভালো কিছু করতে। এতে করে ইন্ডাস্ট্রিরই লাভ। আর কাজটি করতে গিয়ে আমাদের পুরো টিম অনেক অমানবিক পরিশ্রম করেছে। ক্লান্তি ভুলে একটা ভালো নাটক নির্মাণের স্বপ্নে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এই পরিশ্রমের মূল্য শুধু ধন্যবাদে পরিশোধ হবে না। কখনো কখনো ঘামের মূল্য গুণতে হয় ভালোবাসায়।
জানা গেছে, ‘রূপকথা’ নাটকে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব, কেয়া পায়েল, শাহবাজ সানী প্রমুখ। ঈদুল ফিতরে নাটকটি উন্মুক্ত হবে সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে।
