এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে সিন্ডিকেট করে শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি করে শেয়ার বাজার লুটপাটের শুরু করেছে। পরে আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবারই এই লুটপাট অব্যাহত থেকেছে। শেয়ার বাজার ধ্বসের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি একটি বিস্তারিত রিপোর্ট দেন, যা তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রকাশ করবেন বলে ঘোষণা দেওয়ার পরও তিনি প্রকাশ করতে পারেননি। তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে বাধ্য হয়েছেন লোপাটকারীদের তালিকা তিনি প্রকাশ করতে পারবেন না।
শেয়ার বাজার থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন আজ সোমবার তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, সরকার সকল অপরাধীদের বিচার করার পরিবর্তে প্রোমোট করার কারণে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। দিনে শেষে প্রতীয়মান হয়েছে সরকারের বিভিন্ন সিন্ডিকেট এই জুয়ার পরিচালক। সরকারের দরবেশ-ওলি-আউলিয়ারা এই লুটপাটের সাথে সরাসরি জড়িত।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার। উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসাইন প্রমুখ।
বর্তমান সময়ে এই ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের অনেক আগেই শেয়ারবাজার নিম্নমুখী ছিল। কিন্তু ফ্লোর প্রাইস নির্দিষ্ট করে দেওয়ার ফলে স্যালাইন দিয়ে বাজার টিকিয়ে রেখে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বোঝানো হয়েছে তারা ঝুঁকিমুক্ত। সরকার অবৈধ ক্ষমতা দখলের পর এখন ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেওয়ার সাথে সাথেই বিনিয়োগকারীদের টাকা শূন্য হয়ে গেছে। প্রায় ১০ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছে। সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে। এখন তাদের অনেকেরই আত্মহত্যার কথা শোনা যাচ্ছে।
তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, এই অবৈধ সরকার আপনাদের কোনো অধিকার দেবে না। তারা রাষ্ট্রটাকে অর্থ আয়ের উৎসে পরিণত করেছে। তারা জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করবে, সাধারণ মানুষকে নিয়ে তাদের কোনো ভাবনা নাই।
সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল ওহাব মিনার বলেন, সরকার মানুষের অধিকার হরণ করার কাজ সব সময় চালিয়ে যাচ্ছে। তারা শেয়ার বাজার লুটকারীদের বিচারের আওতায় না আনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আজ নিঃস্ব হয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সদস্যসচিব সফিউল বাসার, কেফায়েত হোসেন তানভীর, আহমাদ বারকাজ নাসির, ছাত্রপক্ষের আহ্বায়ক মোহাম্মদ প্রিন্স, মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমেনা বেগম, সুমাইয়া শারমিন ফারহানা, রুনা হোসাইন, রিপন মাহমুদ, যুবপার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব শাহীনুর আক্তার শীলা, পল্টন থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সি।
নগদের জমি জিতল সোনার দোকানের কর্মী দেবাশিষ
ঢাবিতে ঈদের দুই জামাত, প্রথম ৮টায়