ঈদযাত্রার মধ্যে বাড়তি ভাড়া চাওয়ায় যাত্রীদের মারধরে এক বাসের চালক ও তার সহকারীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, গতকাল সোমবার দুপুরে সাভারের ইপিজেড ফটকে যাত্রীদের মারধরে আহত হন ইতিহাস পরিবহনের একটি বাসের চালক সোহেল রানা বাবু (২৬) এবং তার সহকারী (হেলপার) হৃদয় (৩০)। পরে গুরুতর অবস্থায় দুজনকে গাজীপুরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান তারা। অবশ্য নিহতের হৃদয়ের বড় ভাইয়ের দাবি, তিনি বিকেল ৪টার দিকে তার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পান।
আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাকসুদুর রহমান জানান, নিহত ইতিহাস পরিবহনের বাসের চালক সোহেল রানা তার পরিবার নিয়ে মিরপুর-১৪ নম্বরে থাকতেন। তাদের বাড়ি গাজীপুরের টঙ্গীতে। সোহেলের বাবার নাম ফোরকান হোসেন। আর ময়মনসিংহ ফুলপুর এলাকার আবুল কাসেমের ছেলে হৃদয় মিরপুর-১ নম্বরের বাসিন্দা ছিলেন।
মাকসুদুর রহমান বলেন, ইতিহাস পরিবহনের গাড়িটি মিরপুর-১৪ থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত চলাচল করে। সাভারের ডিইপিজেডের ফটকে বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে চালক ও সহকারীর বচসা হয়। একপর্যায়ে যাত্রীরা ওই দুজনকে মারধর করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারা মারা যান।
হৃদয়ের বড় ভাই আতিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিকেল ৪টার দিকে আমি ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পাই। পরে বাসের অন্য সহকারীর কাছ থেকে জানতে পারি, ইতিহাস পরিবহনে ঢাকার মিরপুর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ভাড়া ৮০ টাকার মতো। ঈদ উপলক্ষে সোমবার ভাড়া ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছিল। সব যাত্রীকে ভাড়া বলেই বাসে ওঠানো হয়। একজন যাত্রী বাসে ওঠার পর ১০০ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে হৃদয় ওই যাত্রীকে ভাড়া লাগবে না বলে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হন ওই যাত্রী। পরে ওই যাত্রী হৃদয়কে আশুলিয়া থানা এলাকায় পৌঁছালে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। বাসটি বেলা ৩টার দিকে আশুলিয়া থানাসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে বাসে ২০-৩০ জন যুবক ওঠেন। বাসটি কিছুদূর গিয়ে ডিইপিজেড এলাকায় এসে যানজটে আটকা পড়লে তারা হৃদয়কে বাস থেকে নামিয়ে ইট দিয়ে বুকে আঘাত করে হত্যা করেন। এ ছাড়া চালককেও মারধর করেন। এ সময় বাসচালকের অন্য সহকারী ভয়ে দৌড়ে দূরে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে ফিরে এসে অন্য যাত্রী ও পথচারীদের সহায়তায় চালক ও হৃদয়কে হাসপাতালে নিয়ে যান।’
তিনি বলেন, ‘সামান্য ভাড়ার জন্য আমার ভাইসহ আরেকজনকে ওরা পিটাইয়া মাইরা ফেলল। আমি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
