বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ইরানের হামলার জবাব কীভাবে দেবে ইসরায়েল

  • সবার মনে প্রশ্ন এখন কি করবে ইসরায়েল, অর্থাৎ ইরানের হামলার জবাব কীভাবে দেবে দেশটি
  • ইতিমধ্যেই ইরানের হামলার ‘উল্লেখযোগ্য জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল
আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৩ পিএম

সিরিয়ায় ইরানের কনস্যুলেটে হামলা ও ইরানি জেনারেলের মৃত্যুর জবাবে ইসরায়েলে প্রথমবারের মত শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। যদিও এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ৯৯ শতাংশ আকাশেই ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছে ইসরায়েল।

এরই মধ্যে সবার মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এখন কি করবে ইসরায়েল। অর্থাৎ ইরানের হামলার জবাব কীভাবে দেবে ইসরায়েল।  খবর বিবিসি।

যদিও ইরান বলছে, শনিবারের ওই হামলা লক্ষ্য পূরণ হয়েছে ইরানের। আর হামলা চালাবে না তারা। তবে পাল্টা হামলা হলে এর জবাবে আরও শক্তিশালী হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।

তবে এর মধ্যেই ইরানের হামলার ‘উল্লেখযোগ্য জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির বর্তমান সরকারকে ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টরপন্থী সরকারগুলোর একটি বলে মনে করা হয়। সংকটময় এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরান ও ইসরায়েল—দুই পক্ষকেই সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকেই বর্তমান পর্যন্ত ফিলিস্তিনের গাজায় নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাই বিভিন্ন দেশ থেকে যতই সংযত থাকার আহ্বান জানানো হোক না কেন, গতকালের হামলার জবাব ইসরায়েলের বর্তমান যুদ্ধকালীন সরকার দেবে না, এমন সম্ভাবনা কম।

ইসরায়েলের বিকল্প কি?

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল চাইলে প্রতিবেশী দেশগুলোর কথামত ‘কৌশলগত ধৈর্য’ ধরতে পারে। অর্থাৎ ইরানে পাল্টা হামলা না করে হিজবুল্লাহর মতো ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাওয়া। যদিও এ কাজ বছরের পর বছর ধরে করে আসছে ইসরায়েল।

আবার ইসরায়েল যদি প্রতিশোধ নিতেই চায়, তাহলে শনিবার যেসব ঘাঁটি থেকে ইরান হামলা চালিয়েছে, সেখানে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে তারা। অথবা আরও বড় পরিসরে কিছু করতে চাইলে তারা ইরানের শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিভিন্ন ঘাঁটি, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও কমান্ড সেন্টারে হামলা করতে পারে। তবে এতে ইরানের পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

এদিকে একটা প্রশ্ন ওঠে— এখন যুক্তরাষ্ট্র কী করবে? ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে কি মার্কিন বাহিনী তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে?

উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয়টি আরব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা রয়েছে। মার্কিন সেনারা সিরিয়া, ইরাক ও জর্ডানেও অবস্থান করছেন। যুদ্ধের ব্যাপ্তি বাড়লে এসব দেশে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা হতে পারে বলছে বিবিসি।

এদিকে পাল্টা হামলার শিকার হলে আরেকটি বড় পদক্ষেপ নিতে পারে ইরান। যদিও বহু আগে থেকেই এই হুমকি দিয়ে আসছে দেশটি। সেটি হলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করা। এ জন্য তারা মাইন ও ড্রোন ব্যবহার করতে পারে। এতে বাধার মুখে পড়তে পারে বিশ্বের এক–চতুর্থাংশ জ্বালানি তেল পরিবহন।

গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলার মধ্যেই সিরিয়ায় ইরানি কনস্যুলেটে হামলা ও ইসরায়েলে ইরানের পাল্টা হামলা একটা যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। দুই দেশের এ পদক্ষেপের কারণে আঞ্চলিকভাবে বড় পরিসরে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এমন অবস্থায় ইরান ও ইসরায়েলকে সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত