শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে, ইরান-ইসরায়েলকে সংযমের আহ্বান

  • রোববার বিকেলে ইসরায়েলের অনুরোধে ইরানের হামলা নিয়ে জাতিসংঘের সভা শুরু হয়
  • জরুরি সভার বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে
আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:০৯ পিএম

যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য। এ অঞ্চলের মানুষ একটি পূর্ণমাত্রার ধ্বংসাত্মক সংঘাতের মুখোমুখি। এখনই সময় তাঁদের খাদের কিনার থেকে ফিরিয়ে আনার বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি সভার শুরুতে দেওয়া ভাষণে গুতেরেস এসব কথা বলেন। খবর আল জাজিরা।

স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে ইসরায়েলের অনুরোধে ইরানের হামলা নিয়ে এ সভা শুরু হয়। এতে স্ব স্ব দেশের অবস্থানের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েল ও ইরানের রাষ্ট্রদূতেরা।

বৈঠকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরান ও ইসরায়েলকে পরবর্তীতে আর কোন বিমান হামলা না চালাতে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি না করতে সতর্ক করেন। তবে এ সময় ইরান ও ইসরায়েল একে অপরকে শান্তির জন্য হুমকি হিসেবে অভিযুক্ত করে।

গুতেরেস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দিকের বড় বড় সামরিক পক্ষগুলো সংঘাতে জড়িয়ে যেতে পারে, এমন যে কোনো পদক্ষেপ উপেক্ষা করা জরুরি। ইতিমধ্যে এখানকার বেসামরিক নাগরিকেরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তাঁদের (গাজাবাসী) চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। তাই এখনই সময়, সবাইকে যুদ্ধের কিনার থেকে ফিরে আনার।

তিনি আরও বলেন, (ইরান-ইসরায়েল-গাজা) সংঘাত যাতে আবার উসকে না যায়, তা প্রতিরোধে সবার দায়িত্ব রয়েছে। সবাইকে সক্রিয়ভাবে এই দায়িত্বপালনের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।

ইরান-ইসরায়েলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সভার বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে। এ সময় তাদের প্রতিনিধিরা একে অপরের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য কাউন্সিলকে আহ্বান জানায়।

জরুরি বৈঠকে জাতিসংঘে ইরানের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তার দেশের পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় এবং আনুপাতিক। তিনি দাবি করেন যে ইউএনএসসি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে কারণ তারা সিরিয়ায় ইরানের কূটনৈতিক মিশনে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানায়নি।

তিনি বলেন, ‘তেহরানের কাছে প্রতিক্রিয়া জানানো ছাড়া কোন বিকল্প ছিল না। ইরান আর কোন যুদ্ধ চায় না, তবে যে কোনও হুমকি বা আগ্রাসনের জবাব দেবে।‘

অন্যদিকে ইসরায়েলের জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান ইরানকে "বিশ্বে সন্ত্রাসের এক নম্বর পৃষ্ঠপোষক" এবং "দস্যু রাষ্ট্র" বলে মন্তব্য করেন।

এ সময় এরদান জাতিসংঘকে ইরানের সামরিক দল, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনোনীত করা এবং দেরি হওয়ার আগেই ইরানের উপর সম্ভাব্য সব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আহ্বান জানান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত