হকি লিগে মোহামেডানের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন মোহামেডানের কর্মকর্তারা। আজ এক সংবাদ সম্মেলনে সে অন্যায়ের বিষয়ে যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির কর্তকর্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে মোহামেডানের ডিরেক্টর ইনচার্জ কাজী ফিরোজ রশীদ, ক্লাবের সাবেক তারকা প্রতাপ শঙ্কর হাজরা, পরিচালক সারোয়ার হোসেন, হকি ম্যানেজার আরিফুল হক প্রিন্স দাবী করেন এবারের লিগে নানাভাবে মোহামেডানের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। সে বিষয়গুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণে যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন কর্মকর্তারা।
এ সময় কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘মাঠ ও মাঠের বাইরে আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে সকল প্রতিবাদের জবাব দেওয়ার সুযোগ ছিল না। কারণ বিভিন্ন ঘটনায় এটা স্পষ্ট হচ্ছে যে, বাইলজ সঠিকভাবে মানা হয়নি।’
এ সময় প্রতাপ শঙ্কর হাজরা বলেন,‘অতীতে হকি কার্যক্রমে নানা জটিলতা থাকলেও বাইলজ অবমাননার মতো ঘটনা ছিল না। এবার একেক ম্যাচে একেক আইন প্রয়োগের মতো ঘটনা ঘটেছে। কি কারণে এমনটা হল? আমি বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের কাছে জবাব চাই।’ সাবেক এ তারকা আরও বলেন, ‘হকি বাঁচাতে সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে গ্রহণযোগ্য একটা অ্যাডহক কমিটি গঠন করা যেতে পারে।’
এ সময় উল্লেখ করা হয় যে, মোহামেডান-আবাহনীর শেষ ম্যাচের আগে আমরা যে আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছিলাম, তার নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচে খেলোয়াড়দের মারপিটের ঘটনা সম্পর্কে প্রতাপ শঙ্কর হাজরা বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়রা হামলার প্রতিবাদ করেছে। যার প্রমাণ আমাদের এক খেলোয়াড় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।’
সম্মেলনে কর্মকর্তারা আরও বলেন, ‘যেকোনো কাজে ভুল হতেই পারে। ডিসিপ্লিনারি কমিটির উচিত ছিল বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া; পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেটা করা হয়নি।’ সরকারি হস্তক্ষেপে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের কার্যক্রমে পরিবর্তন না এলে ভবিষ্যতে বয়কটের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়। মোহামেডানের যে কর্মকর্তারা হকি কমিটিতে আছেন, প্রয়োজনে তারাও পদত্যাগ করবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগে মোহামেডান-আবাহনীর মধ্যকার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ০-২ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে একপর্যায়ে ৩-২ গোলে লিড নেয় মোহামেডান। ওই অবস্থায় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আম্পায়ার পাঁচ খেলোয়াড়কে শাস্তি প্রদান করেন। পাঁচ জনের তিনজন ছিল মোহামেডানের। এ প্রতিবাদে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় মোহামেডান। ফলে আবাহনীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে মেরিনার ইয়াংস ক্লাব ও আবাহনীর পয়েন্ট সমান হয় যায়। বাইলজ অনুযায়ী প্লে-অফ ম্যাচে শিরোপা ভাগ্য নির্ধারিত হওয়ার কথা।
