দেশে এক সপ্তাহের তুলনায় গতকাল সোমবার তাপমাত্রা খানকিটা কমলেও আবারও তিন দিনের জন্য ‘হিট অ্যালার্ট’ জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চলতি মাসে এ নিয়ে টানা তৃতীয় দফায় হিট অ্যালার্ট জারি করা হলো। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আজ মঙ্গলবার থেকে তাপমাত্রা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সপ্তাহে চলতি যে তাপপ্রবাহের রেকর্ড তা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাই এই হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। তাপপ্রবাহ এ মাসের শেষদিন পর্যন্ত চলবে। মে মাসের শুরুর দিকে যদি বৃষ্টি না হয়, তবে তাপপ্রবাহ আরও দীর্ঘ হবে। তবে এর মধ্যে তাপপ্রবাহ কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে রাতের তাপমাত্রাও বাড়বে। ফলে মানুষের অস্বস্তিও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকছে। রাতে যতটুকু কমে যাওয়ার কথা, সেটা কমছে না। কারণ রাতে তাপমাত্রা রিলিজ হওয়ার কথা। কিন্তু বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকয় তাপটা রিলিজ হচ্ছে না। তাই রাতেও মানুষ অস্বস্তিকর গরম অনুভব করছে।’
চলতি মাসের শুরু থেকে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে তাপপ্রবাহ বইতে শুরু করে। এরপর চলতি মাসের মাঝামাঝি এসে সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে এই তাপপ্রবাহ। এর মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলারগুলোর ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে অন্যত্র।
ইতিমধ্যেই যশোরে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় এ বছর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তীব্র গরমের কারণে ইতিামধ্যেই স্কুল-কলেজে সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় হিট স্ট্রোকে সারা দেশে বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যানুযায়ী ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে মারা গেছে ১৭ জন।
আবাহওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, কয়েক দিনের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোর ও খুলনায়।
অন্যান্য জেলার মতো রাজধানীতেও গত কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল তাপমাত্রা কিছুটা কম ছিল। গতকাল ঢাকার তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা গত শনিবারের তুলনায় ২ ডিগ্রি কম।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, রাজশাহী, পাবনা, খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার ও রাঙ্গামাটি জেলাসহ রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশ এবং ঢাকা, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে।
এ সময় সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বিরাজ করতে পারে।
কুমারখালীতে হিট স্ট্রোকে ৭ দিনে ৩ জনের মৃত্যু
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমারখালী সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রজব আলী (৫৫) হিট স্ট্রোকে মারা গেছেন। এ নিয়ে এ উপজেলায় ৭ দিনে ৩ জনের মৃত্যু হলো।
কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এসএমএ সাঈদ সাকিব বলেন, গরমের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
মাদারীপুরের ডাসারে একজনের মৃত্যু : মাদারীপুরের ডাসারে তীব্র গরমের মধ্যে জমিতে কাজ করতে গিয়ে আজগর আলী বেপারী (৭৫) নামে এক কৃষকের হিট স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে। গতকাল পুলিশ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহত আজগর আলী উপজেলার গোপালপুর এলাকার পশ্চিম বনগ্রাম গ্রামের বরম আলীর ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হালিম জানান, গরমের ভেতর জমিতে কাজ করতে গিয়ে শুকুর হিট স্ট্রোকে মারা গেছেন।
চুয়াডাঙ্গায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনের মৃত্যু : চুয়াডাঙ্গায় অতি তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুজন নারী মারা গেছেন। তারা দুজনই আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের বেগুয়ারখাল গ্রামের বাসিন্দা। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় স্বামীর জন্য মাঠে ভাত নিয়ে যাওয়ার সময় আশুরা খাতুন (২৫) নামে এক গৃহবধূ মারা যান। এ ছাড়া সকাল সাড়ে ১০টায় একই উপজেলার আয়েশা বেগম (৭০) নামের আরও এ নারী মারা যান।
রাজশাহীতে কৃষকের মৃত্যু : রাজশাহীর বাগমারায় ভুট্টাখেতে কাজের সময় ‘হিট স্ট্রোকে’ এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় বাগমারার তাপমাত্রা ছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নিহত কৃষকের নাম মন্টু হোসেন (৪৫)। তিনি উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের মোসলেম আলীর ছেলে।
