কাঁদলেন মিতুর মা

বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মিতুকে হত্যা করেন বাবুল

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৫২ পিএম

আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে আদালতে অঝোরে কাঁদলেন তার মা শাহেদা মোশাররফ। তিনি সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের শ্বাশুড়ি। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে তৃতীয় অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ জসীম উদ্দিনের আদালতে মেয়ে মাহমুদা হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় শাহেদা মোশারফকে কাঁদতে দেখা যায়।

সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারীর সঙ্গে জামাতা বাবুলের বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক, সেটা মিতু দেখে ফেলায় তাকে মানসিক অত্যাচার এবং পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে মিতুকে হত্যা করেন বাবুল। আদালতে আসামি বাবুলের সামনেই সাক্ষ্যে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এ সময় শাশুড়ির বিস্ফোরক বিভিন্ন তথ্যের বিপরীতে আদালতে নীরব ছিলেন বাবুল আক্তার।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় চাঞ্চল্যকর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর পর প্রথমে সাক্ষ্য দেন অবসরে যাওয়া পুলিশ পরিদর্শক মহিউদ্দিন মাহমুদ, যিনি ঘটনার সময় নগরের পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে ছিলেন। এরপর সাক্ষ্য দিতে কাঠগড়ায় দাঁড়ান শাহেদা মোশাররফ।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী নেছার আহম্মেদ বলেন, মিতু হত্যা মামলায় মিতুর মা শাহেদা মোশাররফসহ ৪৯ জনের সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। শাহেদা মোশাররফের জেরা বাকি রয়েছে।

গত বছরের ১৩ মার্চ বাবুলসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে ওই মামলায় অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। বাবুলের সঙ্গে অভিযোগপত্রভুক্ত অপর ছয় আসামিরা হলেন মো. কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসা, এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা, মো. মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম ওরফে কালু ও শাহজাহান মিয়া। আসামিদের মধ্যে বাবুল, ওয়াসিম, শাহজাহান ও আনোয়ার কারাগারে আছেন। এহতেশামুল জামিনে, কামরুল ও খাইরুল শুরু থেকে পলাতক।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আবদুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিকল্পিত একটা হত্যাকাণ্ডের জন্য বাবুল যে পরিকল্পনা করেছেন, অন্য আসামিদের যে প্রস্তুত করেছেন, সেটাই আজকের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত