'যারা এসিতে থাকেন তারা গরম গরম বলে চিৎকার করছেন'

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪৭ পিএম

এই সময়ে এ রকম তাপমাত্রা থাকে— এ বছরের গরম অত্যন্ত স্বাভাবিক উল্লেখ করে জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বর্তমানে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আইনুন নিশাত বলেছেন, যারা এয়ারকন্ডিশনে থাকেন তারা গরম গরম বলে চিৎকার করছেন।

সম্প্রতি তাপপ্রবাহে পুড়ছে সারা দেশ। অন্যদিকে মরুভূমির দেশ আরব আমিরাত, সৌদি আরব ভাসছে বৃষ্টিতে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব বিষয় নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন এই জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের সাঈদ জুবেরী।

তাপমাত্রার চেয়ে বর্তমানে ফিল বেশি প্রসঙ্গে ড. আইনুন নিশাত বলেছেন, না না এটাও ঠিক না; অনুভূতি তেমন বেশি হচ্ছে না। তাপটা আসছে সৌদি আরব থেকে কাতার-কুয়েত হয়ে। সেটা এসে ইরাক-ইরানের দক্ষিণ দিয়ে পাকিস্তানের দক্ষিণ দিয়ে ভারতের পশ্চিম পাশ দিয়ে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে। এই বাতাসটা মরুভূমির গরম বাতাস। এটা ঢুকে এখন যশোরের ওই দিক থেকে যে বাতাস, যেটাকে স্ট্রিম বলে সেটা ঈশ্বরদী কিংবা সেই সমস্ত জায়গার মেহেরপুর, পদ্মা পাড় হয়ে পৌঁছায় এবং অন্যদিকে উত্তরের বাতাসের প্রবাহ কমছে। আগামী দশ দিন পরে এটা রংপুর-দিনাজপুর পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। আমার কথা হচ্ছে, এ সময় এ রকম তাপমাত্রা থাকে। আমি যখন স্কুলে পড়তাম, পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে তখন গ্রীষ্মের ছুটি হতো, কারণ ছেলেপেলেরা যাতে মাঠে হইচই না করে।

তিনি বলেছেন, আম পাকার সিজন আরও এক মাস পরে, জ্যৈষ্ঠ মাসে। আপনার তো আমের সিজন বুঝতে হবে। ফাল্গুনে মুকুল আসে বা ফুল ফুটে, চৈত্রে সেটা গুটি হয়, বৈশাখে আঁটি আসে এগুলো তো জানতে হবে। কাজেই আম পাকার সিজন লাগবে, গরম লাগবে। আর এ বছরের গরম অত্যন্ত স্বাভাবিক গরম। আপনার গরম লাগে, কারণ এখন শহরবাসী বাইরের গরমের সঙ্গে অভ্যস্ত না। আর গ্রামবাসী কোনো সময় এ গরমে বের হতো না। তারা বাড়ির ভেতরে থাকত, গাছতলাতে থাকত, মাঠে কাজ করত না। কিন্তু এখন জীবিকার তাগিদে অনেকের বাইরে থাকতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ, নির্মাণ শ্রমিক, ইটের ভাটার লোক, রিকশাচালক, তাই না? এ সময়, এই রোদে তাদের তো বাইরে থাকার কথা না, কিন্তু থাকতে হচ্ছে পেটের তাগিদে। আর যারা এয়ারকন্ডিশনে থাকেন তারা গরম গরম বলে চিৎকার করছেন।

বিস্তারিত সাক্ষাৎকার পড়ুন 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত