মালিকদের সম্পদ বাড়লেও শ্রমিকদের মজুরি বাড়ে না

আপডেট : ০১ মে ২০২৪, ০৩:০০ পিএম

মহান মে দিবস, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দিন। তবে এ দিনে অধিকার আদায় হোক বা না হোক শ্রমিকদের বঞ্চনার চিত্র আরও বেশি স্পষ্ট হয়। একইসাথে স্পষ্ট হয় মুনাফালোভী মালিকদের চরিত্রও। দিনের পর দিন এ দেশের শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে বঞ্চিত, অপমানিত ও নির্যাতিত হয়। শ্রমিকদের পরিবারের আহার জোটাতে গিয়ে কত যে শ্রমিক কর্মস্থলেই মারা যান তার সঠিক হিসেব নেই। মারা যাওয়ার পর এই শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ পান না ঠিক যেমন জীবিত অবস্থায় তারা পান না সঠিক মজুরী।

শুধু তাই নয় নিজ কর্মস্থলেই শ্রমিকরা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন, মাসের পর মাস আটকে রাখা হয় তাদের বেতন। কর্মস্থলে নারী শ্রমিকদের হতে হয় যৌন নির্যাতনের শিকার। স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও জাতীয় মজুরি কমিশন গঠিত হয়নি। দিন রাত পরিশ্রম করে শ্রমিকরা যে বেতন পান তা দিয়ে সংসার চলে না। বিপরীতে মালিকের সম্পদ দিনে দিনে বাড়ছেই। যার একটা গাড়ি ছিল তার ৫টা হয়েছে। ৩টা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ১০ টা হয়েছে। ৫ লাখ টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করা মালিক এখন শত কোটি টাকার মালিক। কিন্তু যেই শ্রমিকদের শ্রম আর ঘামের বিনিময়ে বিত্তশালী হন মালিকরা তাদের জীবনমানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই শ্রমিকদের পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ। ন্যূনতম মজুরি নেই ৫০টির বেশি খাতে।

স্বাধীনতার ৫ দশক পর দেশের অর্থনীতি যে শক্তিশালী ভিত পেয়েছে তাতে এই শ্রমিকদের অবধান সবচেয়ে বেশি।  শ্রমিকের ওপর ভর করেই শক্তিশালী হচ্ছে অর্থনীতি। কিন্তু অর্থনীতি যতটা শক্তিশালী হয়েছে আয় বৈষম্য বেড়েছে তারচেয়েও অনেক বেশি-এমনি অভিমত অর্থনীতির বিশ্লেষকদের।

রোদে পোড়ে বৃষ্টিতে ভেজে মহাজনের ঋণ নিয়ে বগুড়ার যে শ্রমিক বেগুন উৎপাদন করেন তিনি যে দাম পান তা দিয়ে উৎপাদন খরচ ওঠে না। অথচ একই বেগুন ঢাকায় বিক্রি হয় বহুগুণ বেশি দামে। যেই কৃষক ধান চাষ করে সংসার চালাতে পারেন না সেই কৃষকের ধান মজুত করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্টকে রেখে দাম বাড়িয়ে বহুগুণ লাভ করেন মিল মালিকরা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস মালিকরা জমার টাকার (চুক্তির টাকা) পরিমাণ বাড়িয়ে দেন। এতে মালিকের মুনাফা বাড়লেও পরিবহন শ্রমিকদের আয় বাড়ে না। তাদের প্রতিদিন ই জীবন যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হয়। রাস্তায় গাড়ি চালাতে যে চাঁদা দিতে হয় তাও এই শ্রমিকরা বহন করেন আবার অ্যাক্সিডেন্টে মারাও যান বাসের চালক কিংবা সহকারীরা। মালিকের কোনো লস নেই ঝুঁকি নেই মালিক কেবলই রক্তচূষা।

বাংলাদেশের অর্থনীতির তিনটি মৌলিক শক্তির মধ্যে রয়েছে কৃষি, রেমিট্যান্স এবং গার্মেন্ট। তিনটি শক্তির সঙ্গে শ্রমিকদের সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি। তৈরি পোশাক, কৃষি, শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিদিনই নতুন শ্রমশক্তি আসছে। তারাই তাদের মেধা ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে অর্থনীতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তারা সেভাবে মজুরি পাচ্ছেন না। এখনো দেশে ৫০টির বেশি খাতে ন্যূনতম মজুরি নেই। ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের গেজেট পর্যালোচনা করে দেখা যায়,একটি খাত থেকে আরেকটি খাতের মজুরির বিশাল পার্থক্য। কোনো খাতের মজুরি ২ হাজার টাকা, আবার কোনো খাতে ১৬ হাজার টাকার বেশি। তৈরি পোশাক খাতে সর্বনিম্ন মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

অথচ এই টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের সংসার ঠিকমতো চলে না। কিন্তু মালিকের সম্পদ দিনে দিনে বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। শ্রমিক দিনে দিনে শোষিত হচ্ছে তার মজুরী বৈষম্যের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে বিপরীতে মালিক শ্রেণির সম্পদের পরিমান পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত