সত্যজিতের অজানা ৭

আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ০৯:২৮ পিএম

১. প্রথম রঙিন বাংলা চলচ্চিত্র হলো সত্যজিৎ রায়ের ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ (১৯৬২)। এটি প্রথম ভারতীয় নৃতত্ত্ব চলচ্চিত্র হিসেবেও স্বীকৃত।

২. ১৯৫৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত এই ছয় বছরে সত্যজিৎ রায় আটটি চলচ্চিত্র (একটি প্রামাণ্যচিত্রসহ) নির্মাণ করেছেন। কিন্তু এর একটিও তার নিজের কাহিনি অবলম্বনে নয়। নিজের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র হলো ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’।

৩. ১৯৬৫ সালে সত্যজিৎ রায় তার ফেলুদা ‘ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি’র আত্মপ্রকাশ ঘটান। কিন্তু চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বেছে নিয়েছিলেন শরদিন্দু চট্টোপাধ্যায়ের গোয়েন্দাচরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর ‘চিড়িয়াখানা’কে।

৪. অনেকেই মনে করেন ‘পথের পাঁচালী’ সিনেমার জন্য সত্যজিৎ অস্কার পেয়েছেন। আসলে এটা সত্যি নয়। সত্যজিৎ রায় ১৯৯২ সালে অস্কার পুরস্কার পান সিনেমায় তার জীবনব্যাপী অবদানের জন্য, নির্দিষ্ট কোনো চলচ্চিত্রের জন্য নয়।

৫. সত্যজিৎ রায়ের একাধিক চলচ্চিত্রের নায়িকা মাধবী মুখোপাধ্যায়। সত্যজিতের চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সময়ে তারা দুজনই বিবাহিত ছিলেন। সত্যজিতের স্ত্রী ছিলেন বিজয়া রায়, মাধবীর স্বামী ছিলেন অভিনেতা নির্মল কুমার। তারা সে সময়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। অবশ্য সে সময়ে এমন খবর রটে গেলেও শক্ত প্রমাণ ছিল না।

তবে ২০০৪ সালে বিজয়া রায় তার আত্মজীবনীমূলক বইয়ে এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি লেখেন, একবার দুজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলায় সত্যজিৎ তার কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে জীবদ্দশায় আর কোনোদিন তিনি মাধবীর সাথে এ ধরণের সম্পর্কে জড়াবেন না। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সত্যজিৎ তার কথা রেখেছিলেন।

সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন প্রয়াত চলচ্চিত্রকার ঋতুপর্ণ ঘোষ। কিন্তু চিত্রনাট্যে সত্যজিৎ-মাধবীর রসায়নের উপস্থিতির কারণে অনুমতি দেননি বিজয়া রায়। অগত্যা ঋতুপর্ণ সত্যজিতের পরিচয় না দিয়েই এক চলচ্চিত্র পরিচালকের অন্দরমহলের ঘটনা হিসেবে নির্মাণ করেন ‘আবহমান’।

৬. বিবিসি পরিচালিত জরিপে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালিদের তালিকায় সত্যজিৎ রায় ১৩ নম্বরে স্থান করে নিয়েছিলেন।

৭. ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের সঙ্গে নিবিড় পরিচয় থাকলেও চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালকের ভার নিতে চাননি সত্যজিৎ। তার চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর, ওস্তাদ বেলায়েত খাঁ, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ প্রমুখ।

তবে এই বিখ্যাত শিল্পীদের পাওয়া যেমন মুশকিল হত তেমনি তারা ছিলেন চড়া মেজাজি। চলচ্চিত্রের প্রয়োজনের থেকে সঙ্গীতের বিশুদ্ধতার প্রতি অধিক মনোযোগী ছিলেন। আর সত্যজিৎ রায় তাদের ফরমাশ মতো বাজাতেও বলতে পারতেন না। ফলে তিনি তাদের মতো বাজাতে অনুরোধ করতেন। তিনি দৃশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজনা যুক্ত করে নিতেন আবহসঙ্গীত হিসেবে। পরে চলচ্চিত্রকে নিখুঁত করতে এবং কাজের সুবিধার্থে ‘তিন কন্যা’ চলচ্চিত্র থেকে নিজেই সঙ্গীত পরিচালনার ভার নেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত