দুই ভারতীয় গুপ্তচরকে বহিষ্কার নিয়ে কী বলছে অস্ট্রেলিয়া?

আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ১০:৩৮ পিএম

অস্ট্রেলিয়ায় ২০২০ সালে ‘কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স’ অভিযান চালিয়ে যে দুই গুপ্তচরকে ওই দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তারা ভারতীয় ছিলেন বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক ক্ষেত্রে নজরদারির পাশাপাশি একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে ওই গুপ্তচরদের বিরুদ্ধে।

একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই খবর প্রকাশের পর ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কথা দাবি করেছে অস্ট্রেলিয়ার সরকার। ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জানিয়েছিলেন, তাদের দেশে কিছু বিদেশি এজেন্ট সক্রিয় রয়েছে। যদিও সেই এজেন্টরা কোন দেশের, এ বিষয়ে সে সময় কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।

এদিকে চলতি সপ্তাহে একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে গোয়েন্দা প্রধান যে বিদেশি গুপ্তচরের কথা বলেছিলেন, তারা ভারতীয়। অস্ট্রেলিয়ার সরকার অবশ্য এই দাবি স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেনি। তবে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং জানিয়েছেন, যে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের সঙ্গে মোকাবিলা করতে তার সরকার প্রস্তুত।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কোষাধ্যক্ষ জিম শার্লেমার্স বুধবার সংবাদ সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনকে (এবিসি নিউজ) বলেন, ‘আমি এই ব্যাপারে না ঢোকার কথাই বলব। ভারতের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক। উভয়পক্ষের চেষ্টার ফল স্বরূপ সাম্প্রতিক সময়ে দুটো দেশ আরও কাছাকাছি এসেছে।’

প্রসঙ্গত, এই অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে এমন একটা সময়ে যখন ভারতের বিরুদ্ধে বিদেশের মাটিতে গোয়েন্দা অভিযান চালানোর অভিযোগ ঘিরে ইতোমধ্যে তোলপাড় চলছে। ওয়াশিংটন পোস্টের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত বছর খালিস্তানি নেতা ও মার্কিন নাগরিক গুরপতওয়ান্ত সিং পান্নুকে হত্যার চেষ্টায় (যা ব্যর্থ হয়) জড়িত ছিল ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং বা র।

বিক্রম যাদব নামে ভারতীয় এক এজেন্টের কথাও ওই প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়। তিনি ভাড়াটে খুনিদের পান্নুনের বাসস্থান এবং অন্যান্য তথ্য দিয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে সাম্প্রতিক প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন এসব ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘ভিত্তিহীন’।

তবে দ্য গার্ডিয়ান দিন কয়েক আগে তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করেছে, বিদেশের মাটিতে বসবাসকারী দেশবিরোধীদের নির্মূল করার জন্য ভারত বিস্তৃত রণকৌশল অনুসরণ করছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ২০২০ সাল থেকে এ বিষয়ে পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি কার্যকলাপ চালিয়েছে। সেই অভিযোগও অস্বীকার করেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছিলেন, ‘বিদেশের মাটিতে এ জাতীয় হত্যাকাণ্ড চালানো ভারতের নীতি নয়।’

ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ

তিন বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশনের (এএসআইও) প্রধান মাইক বার্গেস বলেছিলেন, ‘গুপ্তচরদের একটা নেটওয়ার্ক ২০২০ সাল জুড়ে কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক রাজনীতিবিদ, একটি দূতাবাস এবং রাজ্য পুলিশ সার্ভিসের সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।’ সেই সময় বার্গেস বলেছিলেন, ওই এজেন্টরা ভারতীয় সম্প্রদায়ের ওপর কড়া নজর রেখেছিল।

এর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিমানবন্দরের সুরক্ষা প্রোটোকল সম্পর্কে আলোচনা করেছিল এবং অস্ট্রেলিয়ারন বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত গোপনীয় তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, এএসআইও ভারতীয় এজেন্টদের পরিকিল্পত অভিযান বানচাল করার আগে অস্ট্রেলিয়ার স্পর্শকাতর প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান আছে এমন একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ করেছিল তারা (ভারতীয় এজেন্টরা)।

সোমবার ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২০ সালের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স অভিযানের সময় অস্ট্রেলিয়া থেকে দুই ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়। অন্যদিকে এবিসি নিউজ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় এজেন্টদের একটা দল অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা প্রকল্প বিষয়ক গোপন তথ্যের ওপর নজর রেখেছিল।

অস্ট্রেলিয়ার সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশনের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন তাদের সংস্থা কোনো গোপন বিষয়ে মন্তব্য করবে না। ক্যানবেরার ভারতীয় হাইকমিশনও বিবিসির পক্ষে করা মন্তব্যের অনুরোধের জবাবে কিছু বলেনি।

ভারতের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিককালে এমন একাধিক অভিযোগ উঠেছে। বিদেশের মাটিতে ভারতের গোপন কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সম্পর্কে পশ্চিমা মিত্রদের উদ্বেগও প্রকাশ্যে এসেছে। এই তালিকায় গত বছরের জুন মাসে কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ ভারত সরকারের তরফে বারবার অস্বীকার করা হয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত