নিখোঁজের ১৯ মাস পর ব্রেসলেট দেখে স্বামীর কঙ্কাল শনাক্ত করলেন স্ত্রী

আপডেট : ০৩ মে ২০২৪, ১০:২২ পিএম

নিখোঁজের ১৯ মাস পর পোলট্রি ফার্মের বাগানে ময়লার স্তূপে খুঁজে পাওয়া কঙ্কালের হাতে ব্রেসলেট দেখে স্বামীর মরদেহ শনাক্ত করলেন স্ত্রী। ঘটনাটি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মনীষ বাবুর বাড়ির পাশে কঙ্কালটি পাওয়া যায়।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিস আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন ১৯ মাস আগে নিখোঁজ হওয়া কুশুলিয়া ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী জেসমিন বেগম। তিনি ব্রেসলেট দেখে স্বামীর কঙ্কাল শনাক্ত করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে এ ঘটনায় উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের রাশেদ গাজীর ছেলে নাজমুল হোসেন শিমুলকে (৩৫) সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। শিমুল নিখোঁজ ইসমাইলের বন্ধু। ইসমাইল নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রীর অভিযোগ আমলে নিয়ে এর আগেও সাতক্ষীরা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৬ এর সদস্যরা শিমুলকে আটক করেছিল।

প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক সিরাজ, বাবলু, পীযূষ, নূরসহ একাধিক ব্যক্তি জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে বিষ্ণুপুর গ্রামের মনীষ বাবুর বাড়ির পাশে ময়লার স্তূপে একটি মাথার খুলি পাওয়া যায়। বিষয়টি শ্রমিকদের জানালে তারা এসে খড় সরিয়ে একটি মানুষের কঙ্কাল দেখতে পায়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম থানায় খবর দেন।

এরপর পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিস আলী, উপপরিদর্শক শিহাব হোসেন ও নকিব পান্নুসহ একটি দল গিয়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করে। এ সময় শত শত গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে থাকে। পরে দুপুর ১টার দিকে পিবিআই, সিআইডি, ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিস আলী বলেন, মনোহরপুর গ্রামের জামাত আলীর ছেলে নিখোঁজ ইসমাইল ও নাজমুল হোসেন শিমুল একসঙ্গে বিভিন্ন ইটভাটায় কাজ করাসহ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। হঠাৎ করে ইসমাইল নিখোঁজ হওয়ায় তার স্ত্রী জেসমিন বেগম ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর কালিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

উপ পরিদর্শক নকিব পাননু জানান, ব্রেসলেটে দেখে জেসমিন বেগম কঙ্কালটি তার স্বামীর বলে দাবি করেছেন। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসমাইলের বন্ধু শিমুলকে থানায় আনা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত