সত্যজিতের পৈতৃক ভিটায় মেলা বন্ধ দ্বন্দ্বে!

আপডেট : ১২ মে ২০২৪, ০৬:২৮ এএম

চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটা কিশোরগঞ্জ কটিয়াদীর মসূয়া গ্রামে। এক সময় সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষরা নিজ বাড়িতে ঘটা করে কালভৈরব পূজার আয়োজন করতেন। সেই থেকে ভিটায় বসে কালভৈরব বৈশাখী মেলা। তবে এবার বসছে না সেই মেলা। রীতি অনুযায়ী গত বুধবার থেকে সপ্তাহব্যাপী মেলা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও উপজেলা প্রশাসন মেলা আয়োজনে অনুমতি দেয়নি। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, মেলার শুরুর দিন পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ছিল। আগামী ২১ মে হবে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাচন। এসব আরও কিছু বিষয় বিবেচনায় রেখে মেলাটি স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে কিছুদিন পর মেলাটি আয়োজন করা যায় কি না, বিবেচনা করা হবে। অভিযোগ রয়েছে মেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এলাকায় নিজেদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় একটি পক্ষ জেলা প্রশাসকের কাছে মেলা বন্ধের আবেদন করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, মূলত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্বার্থগত দ্বন্দ্বের কারণে এই ঐতিহ্যবাহী মেলাটি এবার হচ্ছে না।

মেলা না হওয়ায় কটিয়াদী সাহিত্য সংসদের সভাপতি মো. মেরাজ রাহীম বলেন, চলচিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক বাড়িটি ঐতিহাসিক স্থান। মেলা ঘিরে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষের পদচারণা হয়। যেকোনো কারণে হোক মেলা বন্ধ মেনে নেওয়া যায় না।

লোকমুখে প্রচার আছে, কালভৈরব পূজাকে উৎসবের মাত্রা দিতে শিশুসাহিত্যিক হরি কিশোর রায় চৌধুরী বাড়ির পাশে কালভৈরব বৈশাখী মেলার প্রচলন করেন। সেই থেকে প্রতি বছর বৈশাখের শেষ বুধবার থেকে কালভৈরব বৈশাখী মেলার আয়োজন হয়ে আসছে।

জানা যায়, কয়েক বছর ধরে মেলায় তিন শতাধিক বাহারি পণ্যের দোকান বসে। সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটা তো বটেই মেলার দোকানপাটের সারি চলে যায় মসূয়া বাজারে। কবি-সাহিত্যিকরা আসেন মেলায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেলাটির অবস্থান মসূয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। এতদিন স্থানীয় লোকজন মিলেমিশে মেলা পরিচালনা করে আসছিলেন। কয়েক বছর ধরে ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহ জালাল ও ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান এ মেলা আয়োজনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।  মসূয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেনের নেতৃত্বে একটি পক্ষ বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। পক্ষটি মেলায় নিজেদের বলয়ের অংশগ্রহণ বাড়াতে চাচ্ছিল। এ নিয়ে মতবিরোধ থেকে পক্ষ দুটির দূরত্ব বাড়ে। একপর্যায়ে মেলা বন্ধের দাবি জানিয়ে রুবেল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করেন, বুধবার মেলা হওয়ার কথা। ওইদিন লাগোয়া উপজেলা পাকুন্দিয়ায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এ ছাড়া কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলার পোড়াবাড়ির মেলায় সংঘাত হয়। সংঘাতে খুনের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। এ অবস্থায় মেলাটি হলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়।

যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহ জালাল বলেন, নিরাপত্তা কিছু নয়। মূলত রুবেলের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আনা হয়। বনিবনা হয়ে গেলে নিরাপত্তার বিষয়টি বালিশের নিচে রয়ে যেত। ফজলুর রহমান বলেন, আমার বয়স ৭৪ বছর। ১৫ বছর বয়স থেকে মেলা আয়োজনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। করোনা পরিস্থিতি ছাড়া মেলা বন্ধ হয়নি। এবার হয়েছে। তাও স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে।

তবে রুবেল আহমেদ জানান, বনিবনা কিংবা অন্য কোনো স্বার্থের কারণে তিনি মেলা বন্ধের আবেদন জানাননি। আবেদন জানিয়েছেন মেলাকে ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে। কারণ, আগেও এ মেলায় অসংখ্য অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত