কারিগরির জাল সনদ বাতিলে ব্যবস্থা নেবে ডিবি

আপডেট : ১২ মে ২০২৪, ০৬:৩০ এএম

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের জাল সনদ শনাক্ত করে তা বাতিলের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। গতকাল শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট এ কে এম শামসুজ্জামানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা বছরের পর বছর সনদ ও মার্কশিট বিক্রি করেছেন। বিক্রি করা সনদগুলো কীভাবে শনাক্ত করা যায়, সে তথ্য শামসুজ্জামান দিয়েছেন। সনদ শনাক্ত করে বাতিল করা যাবে। আমরা এ তথ্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাব। পাশাপাশি বুয়েটের এক্সপার্টদের যুক্ত করে কাজটি কীভাবে করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১ এপ্রিল রাজধানীর কাফরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শামসুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন রমজান মাসের শেষের দিকে। শামসুজ্জামান আমাদের কাছে রিমান্ডে থাকা অবস্থায় অনেক সাংবাদিক ফোন দিয়ে ঈদের বোনাস চেয়েছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন কোন সাংবাদিককে কখন, কীভাবে, কত টাকা দিয়েছেন। ডিবির কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। যদি কোনো সাংবাদিক শামসুজ্জামানের মুখোমুখি বসে কথা বলতে চান, আমরা তাকে সেই সুযোগ দেব। অন্যায়ভাবে কেউ হয়রানির শিকার হন সেটা আমরা চাই না। পাশাপাশি দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। আমরা তাদেরও বলেছি, দুদক সম্পর্কে শামসুজ্জামান যে তথ্য দিয়েছেন, চাইলে আপনারাও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। যাদের নাম বলেছেন, সবাইকে কথা বলার সুযোগ দেব।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘শামসুজ্জামান মনে করেছেন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের চার পাশে দালাল প্রকৃতির লোক থাকে। পাশাপাশি সাংবাদিক ও দুর্নীতি দমন কমিশন অনিয়ম তদন্ত করে। তারাও যদি তার পাশে থাকে তাহলে সনদ বাণিজ্যটা বড় আকারে করতে পারবেন। সে কারণেই তিনি এই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। শামসুজ্জামানের সহযোগী ফয়সালকে নিয়ে একটি আলাদা বাসায় বসে সনদ তৈরি করতেন। এ কারণে বিভিন্ন মানুষ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত