মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সিকৃবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৭

আপডেট : ১২ মে ২০২৪, ১১:৪৭ পিএম

রুম দখলকে কেন্দ্র করে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। রবিবার বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুস সামাদ আজাদ হলে এই সংঘর্ষ হয়। দুই দফা সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানার সহকারী কমিশনার (এসি) শাহজাহান ভূঁইয়া সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, সিকৃবির আজাদ হলের একটি রুম (৫০৭ নম্বর) দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে ছিল। এলোটমেন্ট পাওয়া কিছু ছাত্রকে ওই রুমে তুলে দেন ছাত্রলীগের সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম রিয়াদ সমর্থিত গ্রুপের নেতা কর্মীরা। তবে সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান হোসেন সমর্থিত গ্রুপের নেতা কর্মীরা এটা নিজেদের রুম বলে দাবি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ হয়। পরে সমাধানের উদ্দেশ্য ছাত্র পরামর্শ, প্রক্টর, প্রভোস্টরা ছাত্রলীগসহ বসলে সেখানে কথা-কাটাকাটির জেরে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ হয়। দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে মাঠে অবস্থান করে আরেকটি গ্রুপের (সহ-সভাপতি সাব্বির মোল্লা ও সাংগঠনিক সম্পাদক জুনায়েদ আহমেদ পক্ষের) নেতা কর্মীরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

দুই দফা সংঘর্ষে ১৭ জন আহত হন বলে নিশ্চিত করেছেন সিকৃবির চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. অসিম রন্জন রায়। এদের মধ্যে দুজনকে ওসমানী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছেন।

এ বিষয়ে আব্দুস সামাদ আজাদ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মীর মো. ইকবাল হাসান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে একটি রুমকে নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন ছাত্র আহত হয়েছে। আমারা আহতদের দেখতে যাচ্ছি। আর ওই রুমটা আমরা তালা মেরে রেখেছি। ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা নিজেরা বসে বিষয়টা সমাধান করবে বলে জানিয়েছে।’

ঘটনা সম্পর্কে জানতে সিকৃবি ছাত্রলীগ সভাপতি আশিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এমাদুল হোসেনকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। এছাড়াও সহ-সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম রিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

এ নিয়ে সিকৃবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. সাদ উদ্দিন মাহফুজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে আব্দুস সামাদ আজাদ হলের একটি রুম নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের ঝামেলা হয়, যার দরুন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়। আমরা সকলের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কারা এ ঝামেলায় জড়িত খতিয়ে দেখা হচ্ছে, পরবর্তিতে কোনো সমস্যা হলে প্রশাসন থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত