মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দুবাইয়ে জারদারি নওয়াজ আম্বানি আদানিদের গোপন সম্পদ

আপডেট : ১৬ মে ২০২৪, ০৬:২৬ এএম

বিশ্বে আধুনিক ও বিলাসবহুল শহরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শীর্ষস্থানীয়। আর এ শহরেই গোপনে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন দেশের ধনী ব্যক্তিরা। আকাশচুম্বী ভবনের এই শহরে তারা প্রত্যেকেই কোটি কোটি ডলারের সম্পদের মালিক। সম্প্রতি ‘দুবাই আনলকড’ নামের ফাঁস হওয়া এক নথিতে প্রকাশ্যে এসেছে তাদের নাম ও সম্পদের পরিমাণ। আর তালিকায় দেখা গেছে, বিশ্বের বড় বড় ব্যবসায়ী, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞায় থাকা ব্যক্তি, এমনকি অর্থ পাচারকারী ও অপরাধীদের নামও।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা সেন্টার ফর অ্যাডভান্স ডিফেন্স স্টাডিস (সি৪এডিএস) প্রথম এই ফাঁসকৃত তথ্য পায়। এরপর এটি তারা নরওয়ের অর্থনীতিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘ই২৪’ এবং অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টকে (ওসিসিআরপি) প্রদান করে। এরপর এই সংস্থাটি বিশ্বের ৭৪টি সংবাদমাধ্যম নিয়ে তদন্ত করে। গত মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি ওসিসিআরপির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দুবাইয়ে সবচেয়ে বেশি সম্পদ রয়েছে ভারতীয়দের। সেখানে ৩৫ হাজার প্রোপার্টির মালিক ২৯ হাজার ৭০০ ভারতীয়। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পাকিস্তানিরা। দেশটির ১৭ হাজার নাগরিকের দুবাইয়ে ২৩ হাজার বাড়ি রয়েছে।

এদিকে প্রতিবেদনটি থেকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ও সম্পদের পরিমাণ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী ফোর্বসও। এই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায়ও ফোর্বস অংশ নিয়েছিল।

বিশ্বের কোন কোন ধনকুবের শহরটিতে সম্পদের মালিক এবং সেখানে কী পরিমাণ সম্পদ তাদের রয়েছে, সেসব জানার চেষ্টা করেছেন পত্রিকাটির সাংবাদিকরা। তাদের অনুসন্ধানে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। সব মিলিয়ে ফোর্বস ২২ ধনকুবের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন ৬০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের ৭৬টি সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে। বিশ্বের ৪ মহাদেশের ১০টি দেশ থেকে এসেছেন তারা।

১০ ধনকুবের ও তাদের সম্পদ : ফোর্বসের প্রতিবেদনে ১০ ধনকুবেরের নাম, তাদের নিট সম্পদ ও দুবাইয়ে থাকা সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে দুবাইয়ে সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক শীর্ষ তিন ধনীই ভারতীয়।

মুকেশ আম্বানি : ফোর্বসের প্রতিবেদনের শুরুতেই রয়েছে ভারতীয় নাগরিক ও শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির নাম। তার নিট সম্পদ ১১ হাজার ২০ কোটি ডলার। সম্পদের উৎস হিসেবে ‘বিভিন্ন খাত’ উল্লেখ করা হয়েছে। দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহ কৃত্রিম দ্বীপে তার আনুমানিক ২৪ কোটি ডলারের সম্পদ রয়েছে।

এমএ ইউসুফ আলী : দ্বিতীয় নম্বরে রয়েছেন লুলু গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ ইউসুফ আলী। তিনিও ভারতীয় নাগরিক। তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৮০ কোটি ডলার। সম্পদের উৎস ‘বিভিন্ন খাত’। পাম জুমেইরাহ, দুবাই মেরিনা ও ইন্টারন্যাশনাল সিটিতে তাদের সাত কোটি ডলারের সম্পদ রয়েছে।

শামশির ভায়ালিল : দুবাইয়ে সবচেয়ে বেশি সম্পদের ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থানটিও দখলে রেখেছেন ভারতীয় নাগরিক। তিনি হলেন বুরজিল হোল্ডিংসের মালিক শামশির ভায়ালিল পরমবাথ। তার সম্পদ ৩৫০ কোটি ডলারের। সম্পদের উৎস ‘স্বাস্থ্যসেবা’ খাত। দুবাই হিলস ও দুবাই প্রোডাকশন সিটিতে তিনি ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলারের সম্পদের মালিক।

সুহাইল বাহওয়ান : তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানের নাগরিক। ১৯০ কোটি ডলার সম্পদের মালিক সুহাইল বাহওয়ান। সম্পদের উৎস ‘বিভিন্ন খাত’। জুমেইরাহ বে আইল্যান্ড, মেদান ও ডাউনটাউন দুবাইয়ে তার সাড়ে ৪ কোটি ডলারের সম্পদ রয়েছে।

আন্দ্রেই মোলচানভ : রাশিয়ার নাগরিক আন্দ্রেই মোলচানভ ও তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলার। সম্পদের উৎস ‘নির্মাণসামগ্রী’। পাম জুমেইরাহ এলাকায় তাদের ২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের সম্পদ রয়েছে।

বিনোদ আদানি : ২ হাজার ২২০ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক সাইপ্রাসের নাগরিক বিনোদ আদানি। প্রতিবেদনে তার সম্পদের উৎস দেখানো হয়েছে ‘অবকাঠামো ও পণ্যদ্রব্য’। এমিরেটস হিল, জুমেইরাহ লেক টাওয়ারস, জুমেইরাহ পার্ক, ডাউনটাউন দুবাই, দুবাই মেরিনা, ইন্টারন্যাশনাল সিটি ও দুবাই সিলিকন ওয়েসিসে তার ২ কোটি ডলারের সম্পদ রয়েছে। অবশ্য ওসিসিআরপির ওয়েবসাইটে বিনোদ আদানিকে ভারতীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চ্যাংপেং ঝাও : কানাডার নাগরিক চ্যাংপেং ঝাও ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক। সম্পদের উৎস ‘ক্রিপ্টো মুদ্রাবিনিময়’। ডাউনটাউন দুবাইয়ে তার ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সম্পদ রয়েছে।

সকেট বর্মন : তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিক। তার সম্পদের পরিমাণ ১৫০ কোটি ডলার। সম্পদের উৎস ‘ভোগ্যপণ্য’। দুবাইয়ের পাম জুমেইরাহ দ্বীপে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সম্পদ রয়েছে সকেট বর্মনের।

ইগর মাকারভ : সাইপ্রাসের নাগরিক ইগর মাকারভ। তিনি ২১০ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক। সম্পদের উৎস ‘বিনিয়োগ’। পাম জুমেইরাহ এলাকায় তিনি ১ কোটি ১০ লাখ ডলারের সম্পদের মালিক।

নগিব সাবিরিস : তিনি মিসরের নাগরিক। নগিব সাবিরিস এবং তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ৩৮০ কোটি ডলার। সম্পদের উৎস ‘টেলিকম’ খাত। পাম জুমেইরাহ এলাকায় তাদের ১ কোটি ডলারের সম্পদ রয়েছে।

তালিকায় আছেন ভুট্টো পরিবারের সদস্যরাও : ফাঁস হওয়া নথির বরাতে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন বলছে, দুবাইয়ে ১৭ হাজার পাকিস্তানি সম্পদের মালিক। তবে তথ্য-উপাত্ত ও অতিরিক্ত সূত্র ব্যবহার করে এ সংখ্যা ২২ হাজারের মতো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

এ তালিকায় নাম রয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি, বাখতাওয়ার ভুট্টো জারদারি ও আসিফা ভুট্টো জারদারি; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভির স্ত্রী আশরাফ; সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছেলে হুসাইন নওয়াজ এবং আলোচিত সাবেক সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়ার ছেলে সাদ সিদ্দিক বাজওয়ারের।

এ ছাড়া দারিদ্র্যপীড়িত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের অন্তত সাত নাগরিকের নামও রয়েছে দুবাইয়ে গোপনে সম্পদ গড়া ব্যক্তিদের তালিকায়। তাদের মধ্যে ছয়জনকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও একজনকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত