দেশ রূপান্তরের সাংবাদিক রানাকে ১০ কার্যদিবসে তথ্য সরবরাহের নির্দেশ 

আপডেট : ১৬ মে ২০২৪, ০৭:৫৩ পিএম

শেরপুরের নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া উম্মুল বানিনের বিরুদ্ধে তথ্য অধিকার আইনে দেশ রূপান্তরের নকলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানার করা অভিযোগ নিস্পত্তি করেছে তথ্য কমিশন।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ কমিশনের কার্যালয়ে শফিউজ্জামান রানা ও ইউএনও’র আইনজীবীর উপস্থিতিতে শুনানি নিয়ে অভিযোগ নিস্পত্তি হয়। এতে নকলা ইউএনওকে আদেশ প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সাংবাদিক রানার করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে তথ্য সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

শুনানির পর কমিশনের একজন উর্ধ্বতন দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘নকলার ইউএনও তথ্য অধিকার আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন বলেই এমন আদেশ দিয়েছে কমিশন।’

গত বছরের ১৪ আগস্ট নকলা ইউএনও কার্যালয়ে উপজেলা পরিচালনা উন্নয়ন প্রকল্পে ২০২০- ২০২১ অর্থবছরে ৫০ লাখ টাকা অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন শফিউজ্জামান রানা। তবে তথ্য না পেয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আপিল করলেও কোনো সাড়া পাননি তিনি। এরপর গত ২২ ফেব্রুয়ারি তথ্য কমিশনে ইউএনও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন শফিউজ্জামান রানা।

এর ধারাবাহিকতায় কমিশনের শুনানিতে শফিউজ্জামান রানাকেও হাজির থাকতে বলা হয়। নকলার ইউএনও’র পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবজাল হোসাইন মৃধা। কমিশনের এজলাস কক্ষে প্রায় ২০ মিনিটের শুনানিতে প্রধান তথ্য কমিশনার ড. আব্দুল মালেক, দুই সদস্য শহীদুল আলম ঝিনুক ও মাসুদা ভাট্টি উপস্থিত ছিলেন। শুনানির পর নকলা ইউএনওকে কমিশন আদেশ প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে শফিউজ্জামান রানার দাবিকৃত তথ্য সরবরাহের আদেশ দেয়।

অ্যাডভোকেট আবজাল হোসাইন মৃধা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানা তথ্য চেয়ে তা পাননি বলে অভিযোগ করেছিলেন। আজ ইউএনও’র পক্ষে আমরা যুক্তি তুলে ধরেছি। কমিশন থেকে বলা হয়েছে, যৌক্তিক সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে আদেশ হবে। পূর্ণাঙ্গ আদেশের অনুলিপি পেলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

গত ৫ মার্চ নকলা ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে ইউনিয়ন ও উপজেলা ডিজিটাল সেন্টারের একটি সরকারি প্রকল্পের কেনাকাটার তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন শফিউজ্জামান রানা। আবেদনের অনুলিপি চাইলে অসদাচরণের অভিযোগ তোলে ইউএনও সাদিয়া উম্মুল বানিনের নির্দেশনায় উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাবুল আরিফের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে রানাকে দণ্ডবিধির দুটি ধারায় ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সাজার বিরুদ্ধে আপিল ও জামিনের পর গত ১২ মার্চ রানাকে জামিন দেয় জেলা প্রশাসন। ওই দিন তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

রানাকে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য দিতে অসহযোগিতার অভিযোগের ব্যাখা দিতে গত ২২ মার্চ তথ্য কমিশন নকলার ইউএনওকে তলব করে। ওই দিন ইউএনও হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেন। শুনানি নিয়ে তথ্য কমিশন তার বিরুদ্ধে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর প্রয়োগকে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ আনে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে তথ্য কমিশন। ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার শিহাবুল আরিফকে নকলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত