বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রতিপক্ষকে ভোট দেওয়ায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪, ১০:৩১ পিএম

পাবনার সুজানগরে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী শাহিনুজ্জামানকে ভোট দেওয়ায় প্রতিপক্ষের ইন্ধনে বখাটেরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।

স্থানীয়রা জানান, গত ৮ মে অনুষ্ঠিত সুজানগর উপজেলা নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামানকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল ওহাব। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই অশান্ত সুজানগর। বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মারপিটের একের পর এক ঘটনা এলাকায় ছড়াচ্ছে আতঙ্ক।

ভুক্তভোগীর স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে ভাটপাড়া এলাকার বাড়ির পাশে টয়লেটে যায় ওই কিশোরী। এ সময় ওঁত পেতে থাকা বারেক, সাজিদ ও ইমন নামের তিনজন শিক্ষার্থীকে মুখ চেপে পাশের নির্মানাধীণ ভবনে নিয়ে যায়। পরে সাব্বির ও তুহিন নামে আরো দুজন যোগ দিয়ে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। কিশোরীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় ওই কিশোরীর নানী মোছা. জহুরা খাতুন বাদী হয়ে অভিযুক্ত আব্দুল বারেক মন্ডল নামে এক যুবককে প্রধান আসামি করে ৫ জনের নামে সুজানগর থানায় মামলা করেছেন। আব্দুল বারেক মন্ডল স্থানীয় ভাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ সময় তারা কিশোরীর স্বর্ণালঙ্কারও ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ ওই কিশোরীর।

ভুক্তভোগী কিশোরীর নানী দাবি, গত ৮ মে নির্বাচনী ফলাফলের পর থেকেই নানাভাবে আমাদের হুমকি দিয়ে আসছিল তারা। তারই ধারাবাহিকতায় ৮ মে রাতে বিজয়ী আব্দুল ওহাবের সমর্থক কামরুজ্জামান দয়ালের নির্দেশে ভুক্তভোগী কিশোরীর মামার দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে দোকান বন্ধ করে অভিযুক্তরা। হুমকি দেওয়া হয় বাড়ি থেকে বিতারিত করার। সেই ঘটনার জেরেই শুক্রবার দিবাগত রাতে কিশোরীকে পরিকল্পিত ধর্ষণ করেছে তারা।

এ বিষয়ে সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে আনারস প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী ও  সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, সন্তানতুল্য ওই কিশোরীকে এমন অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় আমি বাকরুদ্ধ, মনে হচ্ছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাই আমার অপরাধ হয়েছে। বিজয়ী প্রার্থী আব্দুল ওহাবের নির্দেশে তার কর্মী সমর্থকরা সুজানগরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। থানার অফিসার ইনচার্জ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা রোধে পুলিশ তৎপর হলে এমন ঘটনা ঘটতো না।    

বিজয়ী চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল ওহাবের বলেন, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে শাহীন ও তার সমর্থকরা সব কিছুকেই নির্বাচনী সহিংসতা বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। পুলিশ অপরাধীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।

এ বিষয়ে সুজানগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে। নির্বাচন পরবর্তী আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণেই আছে। সকল অভিযোগ আমলে নেওয়া হচ্ছে। থানায় এ পর্যন্ত ১৪টি মামলা হয়েছে এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত বারেকের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালেও ধর্ষণের অভিযোগে থানায় একটি মামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আত্মহত্যাও করেন। অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে এলাকায় ইভটিজিং, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত