সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

৩০ শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৯ মে ২০২৪, ১১:৩৭ পিএম

রাজশাহীতে প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে ছাত্রদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৩৩ বছরের এক শিক্ষক আব্দুল ওয়াকেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তিনি রাজশাহীর কাটাখালী আশরাফ মেমোরিয়াল মডেল স্কুলের শিক্ষক।  

ওয়াকেল ১০ বছরের কম বয়সি ৩০ জন স্কুল ছাত্রদের সাথে বিকৃত যৌন নিপীড়ন করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া ছাত্রদের যৌন নিপীড়ন করে ভিডিও এবং ছবি ধারণ করতেন। সেগুলো বিভিন্ন পর্নো সাইটে সরবরাহ করতেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

আজ রবিবার সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজাদ রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার রাজশাহীর মতিহার এলাকার শ্যামপুর ডাঁশমারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল ওয়াকেলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। অভিযুক্ত ওয়াকেল রাজশাহী শহরের ১০ বছরের কম বয়সী ৩০ জন স্কুলছাত্রকে যৌন নিপীড়ন করেছেন।

সিআইডি জানিয়েছে, ওয়াকেল ছাত্রদের যৌন নিপীড়নের ভিডিও ধারণ করে মোবাইল ফোন, পেনড্রাইভ, কম্পিউটার এবং এক্সটার্নাল হার্ডডিস্কে সংরক্ষণ করে রাখেন। সার্চ ইঞ্জিন এসব তথ্য পৌঁছে দেয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন (এনসিএমইসি) নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে। ওই সংস্থাসহ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা শিশু নিপীড়নের এই তথ্য সিআইডিকে পাঠায়। সেসব তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহীর মতিহার এলাকার শ্যামপুর ডাঁশমারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়াকেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওয়াকেল রাজশাহীর কাটাখালীর আশরাফ মেমোরিয়াল মডেল স্কুলের একজন শিক্ষক। ছাত্রাবস্থায় এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করতেন। এই সময় থেকেই ছাত্রদের টার্গেট করে চকলেট এবং মোবাইলে গেমস খেলার প্রলোভন দেখিয়ে সখ্য গড়ে তুলতেন। অনেক সময় তিনি টার্গেট করা ছাত্রদের হাতে পাবজি গেম ডাউনলোড করা মোবাইল ফোন হাতে দিয়ে পাবজি গেম খেলতে বলতো। বাচ্চারা তখন জনপ্রিয় পাবজি গেম খেলা নিয়ে প্রচন্ড ব্যস্ত থাকতো। এই সুযোগে তাদের সাথে অপ্রাকৃতিক যৌনলালসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে সে শিশু বাচ্চাদের প্যান্ট খুলে ফেলতো এবং বিকৃত যৌনাচার করত। অনেক সময় কোচিং সেন্টারে অথবা নিজ বাড়িতে নিয়ে নানা কৌশলে যৌন নিপীড়ন করতেন। সেসব দৃশ্য আগে থেকে সেট করা রাখা মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করতেন। যৌন নিপীড়নের শিকার সব শিশুই তার ছাত্র ছিল।

আজাদ রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওয়াকেল শিশুদের যৌন নিপীড়নের কথা স্বীকার করেছে। তার ভষ্যমতে এ পর্যন্ত ৩০ জন স্কুল ছাত্রকে বলৎকার করেছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, পেনড্রাইভ এবং কম্পিউটারের একাধিক হার্ডডিস্কে স্কুল পড়ুয়া কোমলমতি ছাত্রদের বিপুল পরিমান নগ্ন ছবি, ভিডিও এবং চাইল্ড পর্নোগ্রাফির কন্টেন্ট পাওয়া গেছে। ওয়াকেলের বিরুদ্ধে আশরাফ মেমোরিয়াল মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত