গর্বের শাটল ভোগান্তির শাটল, গরমে জ্ঞান হারাচ্ছে অনেকেই

আপডেট : ২০ মে ২০২৪, ১২:০৫ পিএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন সার্ভিস। শাটল ট্রেন সার্ভিস বিশ্বে একমাত্র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এটা গৌরবের বিষয়। তবে গর্ব শুধু নামেই, কাজে নয়।

শাটল ট্রেন শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির আরেক নাম। শাটলযাত্রী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির প্রধান কারণ অচল লাইট-ফ্যান, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব, অপর্যাপ্ত শিডিউল, বগিসংকট আর শিডিউল বিপর্যয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক রদবদলেও উন্নতি হয়নি এ পরিবহন ব্যবস্থার। বরং দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।

শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবহন সংকট না থাকলেও এতকাল শিক্ষার্থীদের পরিবহন সমস্যার নিরসনে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন।

সম্প্রতি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, গরমে ট্রেনের বৈদ্যুতিক পাখা চালানোর জন্য শাটল ট্রেনে ‘পাওয়ার কার’ যুক্ত করার আশ্বাস মিলেছে। তবে নতুন ট্রেনের ব্যবস্থা করা, ট্রেনে বগির সংখ্যা বাড়ানো, ট্রেনের শিডিউল বাড়ানো, ডেমু ট্রেন আবার চালু করা এসবের আশ্বাস এখনো বহুদূর।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে পরিবহন খরচ বাবদ ৭৬ লাখ টাকা পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বরাদ্দ বিবেচনায় শাটল ট্রেনের সমস্যার সমাধান করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। করোনা মহামারীর আগে বিকেল ৩টায় নিয়মিত চলত একজোড়া ডেমু ট্রেন। কিন্তু করোনার পর যান্ত্রিক ত্রুটি, জনবল সংকট প্রভৃতি অজুহাতে ডেমু ট্রেনের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম নগরী থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় ১৯৮০ সালে চবি শিক্ষার্থীদের জন্য শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়। বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় শাটল সার্ভিসে দিনে অন্তত ১৫ হাজার শিক্ষার্থী চলাচল করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ১০টি বগি নিয়ে মাত্র ২টি শাটল ট্রেন ১৪ বার শহর-ক্যাম্পাস-শহর চলাচল করে।

ট্রেনে প্রতিবারই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকেন। ফ্যান না থাকায় শাটলের ভেতরে শিক্ষার্থীদের দমবন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। আর লাইট না থাকায় আঁধারের সঙ্গেই তাদের মিতালি। গরমের তীব্রতায় প্রায়ই শিক্ষার্থীদের কেউ না কেউ শাটলে জ্ঞান হারান। এখন এমন ঘটনা নিত্য ঘটে। অসহনীয় দুর্ভোগে অনেকেই ক্লাস-পরীক্ষা উপেক্ষা করছেন।

শিক্ষার্থী মুজাহিদুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শাটলে অসহনীয় গরমের কারণে বেশ কয়েকজনকে জ্ঞান হারাতে দেখেছি। অনেক শিক্ষার্থী গরমের কারণে ক্লাস করা কমিয়ে দিয়েছেন। শাটলের শিডিউল বিপর্যয় নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

প্রতিদিন বিকেল ৪টা ও সাড়ে ৫টার শাটল ১০/১৫ মিনিট দেরিতে যাতায়াত করে। এতে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার্থী রাকিবুল বাশার বলেন, ‘আমাদের দিনের বেশিরভাগ সময় শাটলে চলাচলের কারণে নষ্ট হয়।’

আগামী ৮ ডিসেম্বর চবির পঞ্চম সমাবর্তনের অনুমতি দিয়েছেন চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন। সমাবর্তনের আগেই পরিবহন সংকটের স্থায়ী সমাধান চান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। আশা করি সমাবর্তনের আগেই এর সমাধান হবে।’

আশার আলো পাওয়ার কার

শাটলে পাওয়ার কার না থাকায় তীব্র গরমে যাতায়াত করা অসহনীয় হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে, ট্রেনের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে রেলওয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজারের (জিএম) সঙ্গে আলোচনা করেছে চবি কর্তৃপক্ষ। শাটলে পাওয়ার কার যুক্ত করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম। তবে পাওয়ার কার বসাতে একটু সময় লাগবে। মাস দু-একের মধ্যে একটি ট্রেনে পাওয়ার কার যুক্ত হবে।

নতুন শিডিউল সম্পর্কে রেলওয়ে বলেছে, শিডিউল বাড়ানো সম্ভব নয়। কারণ বাড়তি ট্রেন দেওয়া এই মুহূর্তে তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। নতুন ট্রেন যুক্ত করার বিষয়টি সরকারের উচ্চমহলের হাতে। প্রধানমন্ত্রী চাইলে একটা নতুন ট্রেন চবি শিক্ষার্থীদের দিতে পারেন। রেলওয়ের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, এর সূত্রে দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানান চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. অহিদুল আলম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত