দ্বিতীয় ধাপে ১৫৬ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শুরু

আপডেট : ২১ মে ২০২৪, ০৮:৪৩ এএম

বিভিন্ন জায়গায় সংঘাত, হুমকি, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ মে) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। দেশের ৬৩ জেলার ১৫৬ উপজেলায় এ নির্বাচন হবে। এর মধ্যে ২৪টি উপজেলায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে, বাকিগুলো ব্যালটে। সকাল ৮টায় শুরু হবে ভোটগ্রহণ, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৬৩ জেলার ১৫৬ উপজেলায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনে যেকোনো ধরনের অনিয়ম বন্ধে এসব ম্যাজিস্ট্রেট ভোটের আগে-পরে পাঁচ দিন মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্র ও ভোটারদের নিরাপত্তায় প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৭ ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ১৮ থেকে ১৯ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় আদালত পরিচালনার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে দুজন সশস্ত্র পুলিশ সদস্যও থাকছেন। সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোয় তিন দিন মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গতকাল মধ্যরাত থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সুবিধার্থে উচ্চপর্যায়ের একটি মনিটরিং সেল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসির স্মার্টকার্ড (আইডিইএ) প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ সায়েমের নেতৃত্বে এই সেলে দায়িত্ব পালন করছেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা।

দ্বিতীয় ধাপের ভোটের পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা আশা করি আমাদের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। ছোটখাটো যেসব সমস্যা মাঠে আছে, সেগুলো যাতে না হয়, সেজন্য প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন প্রথম ধাপের নির্বাচনের চেয়েও সুষ্ঠু হবে। ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে কত ভোট পড়বে তা বলা কঠিন। যেহেতু সব দল অংশ নিচ্ছে না। তাই ভোটের হার নিয়ে বলা যাবে না।’

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে এ পর্যায়ে ১৫৬ উপজেলায় ভোটের মাঠে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ৮২৪ জন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬০৩, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৯৩, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫২৮ প্রার্থী রয়েছেন। এই নির্বাচনে প্রথমে ১৬০ উপজেলায় ভোটের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। পরে মামলাসহ নানা কারণে স্থগিত হয়েছে চার উপজেলার নির্বাচন।

একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এরই মধ্যে এ ধাপে নির্বাচিত হয়েছেন ২১ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে কুমিল্লা আদর্শ সদরে মো. আমিনুল ইসলাম, জামালপুরের ইসলামপুরে মো. আবদুস ছালাম, ফরিদপুরের নাগরকান্দায় মো. ওয়াহিদুজ্জামান, চট্টগ্রামের রাউজানে এ কে এম এহছানুল হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আবুল কাশেম চিশতী, সাভারে মঞ্জুরুল আলম রাজীব ও মৌলভীবাজার সদরে মো. কামাল হোসেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে রাজশাহীর বাগমারায় মো. শহীদুল ইসলাম, রাঙ্গামাটির রাজস্থালীতে হারাধন কর্মকার, কুমিল্লা আদর্শ সদরে আহাম্মেদ নিয়াজ, চট্টগ্রামের রাউজানে নুর মোহাম্মদ, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মো. রফিকুল ইসলাম, রূপগঞ্জে মো. মিজানুর রহমান ও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সুমন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্যদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রাঙ্গামাটির রাজস্থালীতে গৌতমী খিয়াং, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সাঈদা সুলতানা, কুমিল্লা আদর্শ সদরে হোসনে আরা বেগম, চট্টগ্রামের রাউজানে রুবিনা ইয়াছমিন রুজি, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় হোসনে আরা বেগম, নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারে শাহিদা মোশারফ ও রূপগঞ্জে ফেরদৌসী আক্তার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রচার শেষ করতে হয় ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে। একই সময় থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার জন্য নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে মাঠে অবস্থান নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কেন্দ্রে কেন্দ্রে অবস্থায় নিয়েছেন পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত ৮ মে প্রথম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন ২১ মে, ২৯ মে তৃতীয় ও ৫ জুন হবে চতুর্থ ধাপের উপজেলা নির্বাচনের ভোট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত