সুপার সাব জাহিদের গোলে বসুন্ধরার ট্রেবল

বসুন্ধরা কিংস ২-১ মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব

আপডেট : ২২ মে ২০২৪, ০৬:০৭ পিএম

স্বাধীনতা কাপ জিতে মৌসুম শুরু করেছিল বসুন্ধরা কিংস। কিছুদিন আগেই ময়নমনসিংহের রফিক উদ্দীন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে টপকে জিতেছিল তারা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা। আজ একই স্টেডিয়ামে ফেডারেশনের কাপের ফাইনালে সেই মোহামেডানকে হারিয়ে দিল বসুন্ধরা। তাতে ২০১২-১৩ মৌসুমের পর বাংলাদেশের কোনো ক্লাব জিতল ট্রেবল। বসুন্ধরার ঝুলিতে এবারই ট্রেবল উঠল প্রথমবার।

খেলার শুরু থেকে আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিল দুই দল। তবুও প্রথমার্ধটা কাটে গোলশূন্যতেই। এই অর্ধটা আবার ছিল ঘটনাবহুল। খেলার ৬৩ মিনিটে আর পারেননি শ্রাবন। ইমনের পাস ধরে দুই জানকে কাটিয়ে জায়গা করে নিয়ে বাঁ পায়ের অসাধারণ শটে শ্রাবনকে পরাস্ত করেন ইমান্যুয়েল সানডে। যে গোলে টানা দ্বিতীয়বার ফেডারেশন কাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন রঙিন হতে থাকে। জিতলেই যে আবাহনীর সমান দ্বাদশ শিরোপা জয় মতিঝিল পাড়ার ক্লাবটির।

সেটা আরও জোরালো হয় একের পর এক কিংসের আক্রমণ ব্যর্থ হলে। খেলার ৮১ মিনিটে রবসনের দূর পাল্লার বুলেট গতির শট সুজন ফিরিয়ে দেন। পাল্টা আক্রমণে যায় সাদা-কালোরা। দিয়াবাতে একাই ছিলেন। কিন্তু দুজন ঘিরে রেখেছিলেন। পরে শট নিলে শ্রাবণ সেটা সেভ করেন। ৮৪ মিনিটে আরও একটি সুযোগ এসেছিল। তবে শট জায়গা মতো নিতে পারেননি রবসন। সুজন সহজেই তালুবন্দী করেন বল।

তবে ৮৭ মিনিটে কিংসের ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন বাঁচান মিগেল। প্রায় মাঝ মাঠ থেকে একক চেষ্টায় বল নিয়ে আক্রমণে ওঠার পথে চারজনকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের অসাধারণ শটে বল জালে জমা দেন। ম্যাচ বাঁচানো গোলের পর এই ব্রাজিলিয়ান জার্সি খুলে করেছেন বুনো উদযাপন। পাঁচ মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে বাঁ দিক থেকে সানডের ডান পায়ের শট ঠেকিয়ে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময় নিয়ে যান কিংস কিপার শ্রাবণ।

১০৫ মিনিটে রবসন রবিনহোর ডান পাতের শট বাঁ দিকে ঝাপিয়ে কর্নার করেন মোহামেডান কিপার সুজন। পরের মিনিটে কর্নার থেকে গোলমুখের জটলা থেকে গোল করেন বদলী ডিফেন্ডার জাহিদ হোসেন। মোহামেডান থেকে চলতি মৌসুমে বসুন্ধরায় নাম লেখান তিনি। খেলারই সুযোগ পাচ্ছিলেন না। এই ম্যাচেও হয়তো হতো না। তবে বিশ্বনাথকে নামিয়ে ফেলায় তার কপাল খুলে যায়। মিগেলের কর্নার ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে পারেননি সুজন। বল পেয়ে ডান পায়েল ভলিতে বল জালে জড়ান। তার আগে অবশ্য সুলেমান দিয়াবাতেকে হালকা ধাক্কা দেন ববুরবেক। দিয়াবাতের গিয়ে পড়েন সুজনের ওপর। ফলে বলটা আয়ত্বে নিতে পারেননি মোহামেডান কিপার। সেই ফাঁকে ডান পায়ের আলতো টোকায় গোল করেন জাহিদ।

সেই গোলের প্রতিবাদে মাঠের বাইরে চলে আসে মোহামেডানের খেলোয়াড়রা। কোচ-ম্যানেজাররা খেলোয়াড়দের বাইরে নিয়ে এসে রেফারিদের সঙ্গে বিতন্ডা জড়িয়ে যান। পরে খেলা শুরু হলেও গোল পায়নি আর কোনো দল। তাই ২-১ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই শিরোপা নিশ্চিত করে কিংস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত