ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। বিপদ সামনে রেখে প্রস্তুতি নিয়েয়ে খুলনার স্থানীয় প্রশাসন। ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে সরিয়ে নিতে ৬০৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু খুলনার ৯ উপজেলায় ৯৯৫ দশমিক ২৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ঝুঁকিতে সাড়ে ১৪ কিলোমিটার রয়েছে বেড়িবাঁধ। এরমধ্যে উপকূলীয় কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় উপজেলায় ঝুঁকিতে রয়েছে ১৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাস বা জোয়ারের পানি বেড়ে ৫ থেকে ৬ ফুট উঁচু হলে লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় রয়েছে তীরের বাসিন্দারা।
খুলনা জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবায়েত আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবেলায় ৬০৪টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রয়েছে। সেখানে পরিস্থিতি অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। এছাড়া ৩টি মুজিব কিল্লায় ৪৩০ জন মানুষ ও ৫৬০টি গবাদি পশু রাখা যাবে। এছাড়া উপকূলীয় উপজেলা কয়রা, দাকোপ ও পাইকগাছায় ৫ হাজার ২৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড জানা গেছে, খুলনার ৯ উপজেলায় (কয়রা, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, ডুমুরিয়া, রূপসা, দিঘলিয়া, তেরখাদা, ফুলতলা) মোট ৯৯৫ দশমিক ২৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এরমধ্যে ঝুঁকিতে রয়েছে সাড়ে ১৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। তবে উপকূলীয় কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় উপজেলায় ঝুঁকিতে রয়েছে ১৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ।
কয়রার বাসিন্দা সৌরভ জানান, কয়রা উপজেলার কাটকাটা, জোড়শিং বাজার, মঠবাড়িয়া, ঘড়িনাল বাজার, হরিণখোলা-ঘাটাখালী, মহারাজপুর, কাশিয়াবাদ, দশহালিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বাঁধ ভাঙলে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে।
এ ব্যাপারে খুলনা পওর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, বেশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সংস্কার করা হয়েছে। তবে জোয়ারের পানি ৫ থেকে ৬ ফুট উঁচু হলে বাঁধ উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে। সেক্ষেত্রে কোথাও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের জন্য জিও ব্যাগ মজুত রাখা হয়েছে।
