সাতক্ষীরায় মৎস্য সম্পদ ও ফসলের ক্ষতি, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

  • ৬০৪ হেক্টর ফসল ও ২০০ হেক্টর মৎস্য সম্পদের ক্ষতি
  • ক্ষতিগ্রস্ত ১১৯২টি কাঁচা ঘর, ভেঙে গেছে ২৭৬টিক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত সংখ্যা ও পরিমাণ আরও বাড়তে পারে
আপডেট : ২৭ মে ২০২৪, ১০:৪৯ পিএম

ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন সাতক্ষীরার মৎস্য ও কৃষি সম্পদ। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে সাধারণ চাষিরা। 

দেশের সর্ব দক্ষিণের দুর্যোগ কবলিত উপজেলা শ্যামনগর। উপজেলার কলবাড়ি গ্রামের চিংড়ি চাষি ও মুরগির খামারি আলতাফ হোসেন মিঠু। সোমবার তাকে ভেঙে যাওয়া মুরগির খামারের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। 

দেশ রূপান্তরকে তিনি জানান, রবিবার ঝড়ো বাতাসে খামারসহ তার দুটি ঘর ভেঙে যায়। এতে দুই শতাধিক লেয়ার মুরগির মৃত্যু হয়, যা তার আয়ের অন্যতম উৎস। এর ফলে তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। 

একই চিত্র দেখা গেছে অন্যান্য স্থানেও। তবে প্রাণিসম্পদের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি কত তা গণমাধ্যমকে জানাননি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান। সোমবার সারাদিনই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের লিখিত বার্তায় বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমাল এবং অতিবৃষ্টিতে ৬০৪ হেক্টর ফসল ও ২০০ হেক্টর মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক হাজার ১৯২টি। সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে ২৭৬টি।

তার মতে, ঝড়-বৃষ্টি থামলে সঠিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা যাবে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত সংখ্যা ও পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এর আগে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রথম রাতেই আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে স্ট্রোকজনিত কারণে এক বৃদ্ধ প্রাণ হারান। 

শ্যামনগরের রাজনীতিক স ম আব্দুস সাত্তার বলেন, শ্যামনগর এবং আশাশুনির সাধারণ মানুষ দুর্যোগে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই অঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ রাখতে টেকসই বেড়িবাঁধের বিকল্প নেই। রিমালে সাধারণ চাষিরা যেভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে তাতে দৃশ্যমান প্রমাণ না থাকায় চাষিরা সরকারের যথাযথ সহায়তার তালিকাভুক্ত নাও হতে পারে। তাই সঠিকভাবে ক্ষতি নিরূপণ করলে চাষিরা উপকৃত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত