চলতি মাস থেকেই গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহতে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে গত শুক্রবার রাফায় তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলের আগ্রাসন বন্ধের রায়ের পর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দখলদার দেশটির বাহিনী।
ইসরায়েলের একের পর এক তীব্র হামলায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরটি।
এবার যুদ্ধবিধ্বস্ত রাফাহ শহরের কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে বেশ কয়েকটি ইসরায়েলি ট্যাংক। সেই সঙ্গে অঞ্চলটির বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। আশ্রয়শিবিরে ইসরায়েলের সবশেষ হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ২১ জন। খবর আল জাজিরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে আল জাজিরা জানায়, গতকাল মঙ্গলবার ইসরায়েলি ট্যাংক প্রথমে রাফাহ’র প্রাণকেন্দ্রের আল-আওদা মোড় দখলে নেয়। সেখানে মসজিদের কাছে ইসরায়েলের ট্যাংক এবং মেশিনগান সজ্জিত সাজোঁয়া যান দেখা গেছে। কাউকে রাস্তায় দেখলেই ইসরায়েলি ট্যাংক এবং ড্রোন থেকে গুলিবর্ষণ করা হচ্ছে।
রাফাহের বাসিন্দারা জানান, “মানুষ বর্তমানে তাদের ঘরের মধ্যে রয়েছে কারণ রাস্তায় যে কাউকে দেখলেই ইসরায়েলি ড্রোন থেকে গুলি চালানো হচ্ছে।"
এছাড়া মঙ্গলবার রাফাহ শহরের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকার আশ্রয়শিবিরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ হামলায় নিহত হয়েছে ২১ জন, যাদের মধ্যে অন্তত ১৩ জন নারী ও কিশোরী। এই হামলায় আহতও হয়েছে অনেকে।
যদিও এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। এক বিবৃতিতে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, "গত কয়েক ঘণ্টায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে রাফাহতে আশ্রয় শিবিরে হামলার প্রতিবেদন দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী রাফাহর আল-মাওয়াসির এলাকায় কোন হামলা করেনি।"
এর আগে গত রোববার রাফাহর তেল আল-সুলতান আশ্রয়শিবিরে ইসরায়েলের হামলায় ৪৫ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় বইছে। তবে ইসরায়েলের দাবি, কোনো বেসামরিকদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে না। কেবল সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
চলতি মাসের প্রথম থেকেই ইসরায়েলের আগ্রাসনে ১০ লাখের মত ফিলিস্তিনি রাফা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এদের বেশিরভাগই ইতিমধ্যে গাজায় ইসরায়েলের রক্তক্ষয়ী আগ্রাসনের কারণে বেশ কয়েকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
আইসিসির প্রধান কৌঁসুলিকে হুমকি দিয়েছিলেন মোসাদ প্রধান