শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মোদিকে নিয়ে খোলা চিঠিতে যা লিখলেন মনমোহন সিং

আপডেট : ৩০ মে ২০২৪, ১০:৩৫ পিএম

ভারতের লোকসভার সপ্তম দফা তথা শেষ দফার ভোট আগামী শনিবার (১ জুন)। তার ঠিক দুই দিন আগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং দেশের মানুষের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখলেন।

চিঠিতে মনমোহন লিখেছেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় রাজনৈতিক ভাষ্য ও বিতর্কগুলো আমি গভীর মনোযোগের সঙ্গে শুনছি। দেখছি, সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কী জঘন্য ধরনের ঘৃণা ভাষণ দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রিত্বের পদমর্যাদা, এই পদের গরিমা তার মতো এভাবে আর কেউ কখনো ধুলায় লুটাননি। সমাজের কোনো বিশেষ অংশ অথবা বিরোধীদের লক্ষ্য করে আর কোনো প্রধানমন্ত্রী এত জঘন্য অসংসদীয় ও নিম্নমানের ভাষাও ব্যবহার করেননি।

তিনি লিখেছেন, তারা আমার নামে ভুল বিবৃতিও দিয়েছে। অথচ আমি জীবনে কখনো কোনো সম্প্রদায়কে অন্যের থেকে আলাদা চোখে দেখিনি। সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন করিনি। তেমন করার অধিকার ও অভ্যাস একমাত্র বিজেপিরই আছে।

দেশের অর্থনীতি নিয়ে মনমোহন সিং লিখেছেন, গত ১০ বছরে দেশের অর্থনীতি মারাত্মক অস্থিরতা দেখেছে। নোট বাতিল ও ত্রুটিযুক্ত জিএসটি রূপায়ণের আঘাত সহ্য করেছে। কোভিড–‘১৯–এর মোকাবিলায় অব্যবস্থা মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করেছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৬–৭ শতাংশের গড়ের নিচে নেমে গেছে। সেটাই হয়ে গেছে প্রবৃদ্ধির নতুন স্বাভাবিক হার।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, বিজেপি সরকারের আমলে গড় প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। অথচ কংগ্রেস–ইউপিএ আমলে তা ছিল ৮ শতাংশের মতো। বেকারত্বের অসহনীয় জ্বালা ও আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি বৈষম্য দৃষ্টিকটু করে তুলেছে। গত ১০০ বছরে এমন দেখা যায়নি। কংগ্রেস–ইউপিএর সময় দেশের অর্থনীতির সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু তা কাটিয়ে আমরা মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়ে গিয়েছিলাম। অথচ আজ বিজেপির অপশাসন ও অব্যবস্থায় পারিবারিক সঞ্চয়ের হার এত কমে গেছে, যা গত ৪৭ বছরে দেখা যায়নি।

কৃষক বিক্ষোভের উল্লেখ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, লাঠি ও রাবার বুলেটই যথেষ্ট ছিল না, প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের বাক্যবাণেও বিধ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা পরজীবী, আন্দোলনজীবী। মোদি বলেছিলেন ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করবেন। অথচ আজ কৃষকদের গড় দৈনিক আয় মাত্র ২৭ রুপি, যেখানে তাদের মাথাপিছু গড় ঋণের পরিমাণ ২৭ হাজার রুপি।

চিঠিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভোটের সময় শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, তারা যেন উন্নয়ন ও সুসংহত প্রগতির স্বার্থে ভোট দেন। যুবসম্প্রদায়কে খুব ভেবেচিন্তে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, ভোট দিন ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে।

তিন পৃষ্ঠার খোলাচিঠিতে মনমোহন আরও বলেন, একমাত্র কংগ্রেসই পারে উন্নত ও প্রগতিশীল ভবিষ্যতের গ্যারান্টি দিতে, যেখানে গণতন্ত্র পদদলিত হবে না, সংবিধান রক্ষিত হবে। স্বৈরাচারের হাত থেকে দেশকে রক্ষার এটাই শেষ সুযোগ।

চিঠির শেষে আল্লামা ইকবালের একটি কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘ফির উঠি আখির সদা তৌহিদ কি পাঞ্জাব সে, মর্দ-এ-কামিল নে জাগায়া হিন্দ কো ফির খোয়াব সে। জয়হিন্দ।’

প্রসঙ্গত, ভারতে ১৮তম লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে একটা বড় সময়জুড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘ধর্ম’ নিয়ে মন্তব্য করেছেন, বিশেষ করে মুসলিমদের বিরুদ্ধে। পশ্চিমবঙ্গে গিয়েও তিনি বারবার বলেছেন, এ রাজ্যে হিন্দুরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে গেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের কাছে মুসলিমরাই ছিল চোখের মণি। মুসলিমদেরই সমস্ত সুযোগ-সুবিধায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত