বাংলাদেশের ষষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে বিশ্বের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টের শিখরে উঠেছেন বাবর আলী। পেশায় চিকিৎসক বাবর একজন লেখকও। গত ১৯ মে তিনি এভারেস্টের শিখরে ওঠেন। এর দুই দিন পর পৌঁছে যান এভারেস্টের সঙ্গে লাগোয়া চতুর্থ শীর্ষতম পর্বতশৃঙ্গ লোৎসের চূড়ায়।
বাবরের এভারেস্টজয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনায় মেতে ওঠে কিছু মানুষ। এভারেস্ট কেন জয় করতে হবে— এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক-বিতর্কে জড়ান তারা। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল বাবরের কাছে।
এসব তর্ক-বিতর্ক কিছুটা হলেও চোখে পড়েছে উল্লেখ করে বাবর বলেন, ‘আমার কাছের মানুষ ফরহাদ ভাই কিংবা আমার বড় ভাই, মা বলেছে এগুলো দেখার দরকার নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমার বয়সের একজন ছেলে ৪৫ লাখ টাকা পেলে কি করবে? গাড়ি কিনবে। ফ্ল্যাট কিনতে পারে। আর কিছু করতে পারে। আমি সেই জায়গা থেকে যে প্যাশন আছে ওটাতে পারসু করেছি। আমি মনে করি না এটা নিয়ে লোকের মাথা ঘামানোর বেশি কিছু আছে। আমি জীবন ভিন্ন পারস্পেকটিভ থেকে দেখেছি।’
বাবর আরও বলেন, ‘পাহাড় থেকে ডিফারেন্ট অ্যাঙ্গেল দেখা যায়। ঢাকা থেকে কাঠমুণ্ডু যেতে এভারেস্ট দেখা যায়। সে এভারেস্ট ট্রেক করে বেজক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায়। আবার যাত্রাপথেও দেখা যায়। দেখার মধ্যে তফাৎ আছে।’
এভারেস্টের চূড়ায় ৭০ মিনিট অবস্থান করেছিলেন বাবর। সেই অনুভূতিও প্রকাশ করেছেন তিনি। দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটা কথা বারবার মনে হচ্ছিল। এই চোখের অনেক কিছু দেখার বাকি ছিল। পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়ায় দাঁড়িয়ে বাকি দুনিয়া দেখা। তিব্বতের দিকটায়, যেটা নেপাল-তিব্বতের বর্ডারে পড়েছে; আমার এত দারুণ লেগেছে। ঢেউ খেলানো পাহাড়ের সারি দিগন্ত পর্যন্ত। অসম্ভব ভালো লাগার। পাহাড়ই দেখা যায় চারপাশে।’
বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যেকোনো চূড়াই প্রথম দাঁড়ানোর পরেই ব্যাকপ্যাক থেকে যে জিনিসটা বের করি সেটা ডেফিনেটলি লাল সবুজ পতাকা। যদিও এটি ইন্ডিভিজুয়াল স্পোর্টস, দলগত না। কিন্তু আমি কোনো চূড়ায় উঠলে দেশ তো খানিকটা হলেও ওপরে ওঠে। এটুকুই বিশ্বাস করি।’
বাবর আলীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করেছেন। এরপর নিয়েছেন এমপিএইচ ডিগ্রি। পরবর্তীতে বিভিন্ন আইএনজিও, ইউএনএ এজেন্সিতে কাজ করেছেন।
দেশের সবচেয়ে বড় রিফিউজি ক্যাম্প কক্সবাজারেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এছাড়াও আইসিডিডিআরবিতে ছিলেন। কিন্তু যখনই অ্যাডভেঞ্চার আর পেশার মধ্যে কোনোটা বেছে নিতে হয়েছে তিনি অ্যাডভেঞ্চারকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ২০ হাজার টাকা