বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটা বেনজীর একটা আজিজ নয়, এই সরকার হাজার হাজার আজিজ-বেনজীর তৈরি করেছে। আজকে খবরের কাগজ খুললেই কি দেখেন আপনারা? দেখবেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ তার হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি। কখন করেছেন, যখন তিনি র্যাবের ডিজি ছিলেন, পুলিশে আইজি ছিলেন তখন তৈরি করেছেন। যার বেতন সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার বেশি হয় না, সেই লোকের এখন দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা সম্পদ।
শনিবার (১ জুন) বিকালে নগরীর চান্দনা চৌরাস্তা সংলগ্ন একটি কমিউনিটি সেন্টারে ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে’ গাজীপুর মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই বেনজীর ৪ মে পুরো পরিবার নিয়ে সিঙ্গাপুর চলে গিয়েছে। কাগজে কলমে বলছে মাত্র কয়েকটা ব্যাংকের যে অ্যাকাউন্ট সেখান থেকে ৬০ কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেছে। ৬০ কোটি টাকাই নয় আরো অসংখ্য টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এরা কি চোখে আঙুল দিয়ে বসেছিল? ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট কি চোখে আঙুল দিয়ে বসেছিল? সরকার কি চোখে আঙুল দিয়ে বসেছিল? কিন্তু আমরা যখন চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে চাই, পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে এয়ারপোর্টে গেলে আমাদেরকে দেড় দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। আর তাকে (বেনজীর) জামাই আদর করে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে তুলে দিয়েছে সে যেন দেশ থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। এই সরকার হচ্ছে চোরের রাজা। যারা চুরি করেছে তাকে সবসময়ই প্রশয় দিয়েছে।
সাবেক সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আব্দুল আজিজ সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা গেল একজনের কথা, আরেকজনের কথা বাইরে বেরিয়ে এসেছে। হঠাৎ করে আমরা দেখলাম সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল আজিজ। যার একটা ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল আল জাজিরাতে। তিনি কীভাবে তার ভাইদেরকে রক্ষা করার জন্য প্রভাব খাটিয়ে তাদেরকে মুক্ত করে পাসপোর্ট দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে আমেরিকা স্যাংশন দেওয়ার পরে এখন তাদের টনক নড়েছে। এখন বলছে আমরা তদন্ত করবো।
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে ও সদর মেট্রো থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনিরের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল, অধ্যাপক গোলাম হাফিজ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার, ডা. মাজহারুল ইসলাম, ড. অ্যাডভোকেট শহিদুজ্জামান, মেহেদী হাসান এলিচ, আব্দুস সালাম শামীম, আনোয়ারা বেগম, মাহবুবুব আলম শুক্কুর, ভিপি জয়নাল আবেদীন তালুকদার, সুরুজ আহমেদ, হুমায়ূন কবির রাজু, মহানগর কৃষকদলের সভাপতি আতাউর রহমান, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা সাজিদুল ইসলাম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন শাীন, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান রাজু, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক খাদিজা আক্তার বীনা প্রমুখ।
