কানাডিয়ান সিরিয়াল কিলার রবার্ট পিকটন। ২০০৭ সালে ২৬ জন নারীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হন পিকটন। তবে আন্ডারকভার পুলিশ অফিসারের কাছে বড়াই করে পিকটন বলেছিলেন, তিনি মোট ৪৯ জন নারীকে খুন করেছেন। সেই পিকটন (৭৪) গত শুক্রবার জেলে অপর আরেক আসামির হাতে খুন হয়েছেন।
সিএনএনের খবরে বলা হয়, নারীদের ভুলিয়েভালিয়ে নিজের শূকর খামারে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করতেন রবার্ট পিকটন। তারপর দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে শূকরদের খাওয়াতেন। ধরা পড়ে যান ভ্যাঙ্কুভারে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।
একটি বিবৃতিতে কারেকশনাল সার্ভিস অফ কানাডা জানিয়েছে, কুইবেক প্রদেশের পোর্ট কার্টিয়ার ইনস্টিটিউশনে বন্দি ছিলেন পিকটন। ১৯ মে অন্য এক বন্দি তার ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানেই মৃত্যু হয়েছে সিরিয়াল কিলারের।
২০০৭ সালে ২৬ জন মহিলাকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হন পিকটন। তবে আদালতে ৬ জন মহিলাকে হত্যায় দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। পিকটনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের (বিনা প্যারোলে সর্বোচ্চ ২৫ বছর) সাজা শোনায় আদালত।
ভ্যাঙ্কুভারের পোর্ট কোকুইটলামে শূকরের ফার্ম রয়েছে পিকটনের। তাকে গ্রেফতারের আগে ওই এলাকার ৬৫ নারী নিখোঁজ হয়ে যান। এদের মধ্যে কেউ যৌনকর্মী, কেউ মাদকাসক্ত। এককথায় সমাজ পরিত্যক্ত নারীদেরই টার্গেট করতেন পিকটন। তার খামারে তল্লাশি চালিয়ে ৩৩ জন নারীর দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ।
এক আন্ডারকভার পুলিশ অফিসারের কাছে বড়াই করে পিকটন বলেছিলেন, তিনি মোট ৪৯ জন নারীকে খুন করেছেন। মামলা চলাকালীন প্রসিকিউশনের সাক্ষী অ্যান্ড্রু বেলউড আদালতকে জানান, পিকটন তাকে বলেছিলেন কীভাবে তিনি নারীদের শ্বাসরোধ করে খুন করেন, তারপর দেহের অবশিষ্টাংশ শূকরদের খাওয়ান।
এদিকে পিকটনের ওপর হামলার দায়ে ৫১ বছর বয়সী এক বন্দিকে হেফাজতে নিয়েছে জেল কর্তৃপক্ষ। এমনটাই জানিয়েছেন পুলিশের মুখপাত্র হুগুস বিউলিউ।
২০১৬ সালে পিকটন জেলে বসে একটি বই লিখেছিলেন। পরে বইটি প্রকাশ করে অ্যামাজনে বিক্রির জন্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জনসাধারণের প্রতিক্রিয়ার পর তা দ্রুত প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
ইংল্যান্ডের মাটির নিচে থাকা ১০০ টন স্বর্ণ ফিরিয়ে আনল ভারত
এক্সিট পোল নয়, এটি মোদি মিডিয়া পোল: রাহুল গান্ধী