দুর্নীতির জন্যই কি বেনজীর নীল-লাল রঙের পরিবর্তে সবুজ পাসপোর্ট নেন?

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৪, ০৭:২১ পিএম

দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার সম্পদের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আলোচনায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ। এবার অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তিনি সরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে নীল রঙের অফিশিয়াল পাসপোর্ট করেননি। সুযোগ থাকার পরও নেননি ‘লাল পাসপোর্ট’। বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে সাধারণ পাসপোর্ট তৈরি করেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভয়াবহ ধরনের অপরাধের পরিকল্পনা থেকেই সবুজ রঙের পাসপোর্ট নেন সাবেক এই আইজিপি।

জানা গেছে, বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে সাধারণ পাসপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রেও আশ্রয় নিয়েছেন নজিরবিহীন জালিয়াতির। নবায়নের সময় ধরা পড়লে আটকে দেয় পাসপোর্ট অধিদপ্তর। চিঠি দেওয়া হয় র‍্যাব সদর দপ্তরে। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে ম্যানেজ করেন সব। পাসপোর্ট অফিসে না গিয়ে নেন বিশেষ সুবিধা। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের আলোচিত দুই ভাই হারিস আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ জোসেফ যে প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট করেছিলেন, সেই একই কায়দায় পাসপোর্ট নেন বেনজীর। একটি পত্রিকার অনুসন্ধানে জানা গেছে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটা ন্যক্কারজনক প্রতারণা ও জালিয়াতি। যারা জালিয়াতিপূর্ণ পাসপোর্ট ইস্যু করেছে, তারাও দায় এড়াতে পারেন না। দুপক্ষের যোগসাজশেই এটা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রক হিসাবে পাওয়া বিশেষজ্ঞ নলেজ তিনি অপরাধ সংঘটনের কাজে ব্যবহার করেছেন। সরকারি কর্মকর্তারা পূর্বানুমোদন ছাড়া বিদেশে যেতে পারেন না। এটা এড়ানোর জন্য সরকারি চাকরির তথ্য গোপন করে পাসপোর্ট নেওয়াটা একটা কারণ। অন্য কারণ হচ্ছে-বেসরকারি চাকরিজীবী হিসাবে তিনি যতটা সহজে বিদেশে ভ্রমণ, বিনিয়োগ ও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাবেন, সরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে অফিশিয়াল পাসপোর্ট করলে সেই সুযোগ পাবেন না। কাজেই ভয়াবহ ধরনের অপরাধের পরিকল্পনা যে তার শুরু থেকেই ছিল, এটা তারই পরিচায়ক।

জানা গেছে, বেনজীর তার পুরোনো হাতে লেখা পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেন ২০১০ সালের ১১ অক্টোবর। রহস্যজনক কারণে নীল রঙের অফিশিয়াল পাসপোর্ট না নিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট নেন। এ সময় আসল পরিচয় আড়াল করে নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী বলে পরিচয় দেন। আবেদন ফরমে পেশা হিসাবে লেখেন ‘প্রাইভেট সার্ভিস’। ২০১৪ সালে ফের তিনি পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করেন। কিন্তু এবারও যথারীতি নিজেকে বেসরকারি চাকরিজীবী বলে পরিচয় দেন। বেনজীর তখন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছিলেন। পরে ২০১৬ সালে তিনি ফের পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন জমা দেন। এ সময় তিনি ছিলেন র‍্যাব মহাপরিচালক। এবারও যথারীতি তিনি বেসরকারি পাসপোর্টের আবেদন করেন। তখনই ধরা পড়ে তার তথ্য গোপন ও জালিয়াতির ঘটনা।

পরে বিষয়টি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালকের নজরে আনা হলে বেনজীরের আবেদনপত্র আটকে যায়। তখন বেনজীরকে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দাখিল করতে বলা হয়। কিন্তু এনওসি জমা না দিয়ে পাসপোর্ট নবায়নের চাপ দেন বেনজীর। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেনজীরকে পাসপোর্ট দিতে বাধ্য হয় পাসপোর্ট অধিদপ্তর (ডিআইপি)। যার নম্বর বিএম০৮২৮১৪১।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত