ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন মেহেদী মোহাম্মদ হাসান। দায়িত্ব পালন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির। এর আগে এই হলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর আওতাধীন পলাশী কাঁচাবাজারে নিয়মিত চাঁদাবাজি করে আসছেন তিনি ও তার এক সহযোগী। চাঁদা না দিলেই ব্যবসায়ীদের করা হতো মারধর। একই সঙ্গে দেওয়া হতো জীবননাশের হুঁমকিও। বেশ কিছুদিন ধরেই পলাশী বাজারে মেহেদী নামটাই আতংক ছড়িয়েছে। এসএম হলের ছাত্রলীগ নেতা হওয়ার সুবাদে পলাশীতে এর আগেও চাঁদাবাজি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গত মে মাসে সানাউল্লাহ নামে কনফেকশনারির এক দোকানির কাছে তিনি দুই হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। পরে তিনি বাধ্য হয়ে মেহেদীকে দুই হাজার টাকা চাঁদা দেন। এর কয়েক দিন পর দেলোয়ার নামের এক কলা বিক্রেতার কাছে চাঁদা দাবি করেন। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মাংসের দোকানের চাপাতি এনে তার ওপর হামলা চালিয়ে তার কাছ থেকে এক হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন মেহেদী। গত পরশু পলাশীর ব্যবসায়ী সানাউল্লাহ এবং ওবায়দুলের কাছ থেকে দুই লাখ করে চার লাখ টাকা দাবি করেন ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা।
সর্বশেষ রবিবার রাতে মেহেদী হাসান ও তার সহযোগী শহীদুল ইসলাম চাঁদার জন্য পলাশী মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ীকে মারধর করেন। পরে ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে তাদের গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চাঁদাবাজিতে বাঁধা দেওয়ায় চাপাতি দিয়ে নজরুল, ওবায়দুল এবং মাহবুব নামের তিন ব্যবসায়ীকে মারতে গেলে দোকানিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগীকে গণপিটুনি দেন এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে চকবাজার থানায় তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। সোমবার তাদের কোর্টে চালান করে দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২১ সালে সলিমুল্লাহ হল থেকে মাদক এবং নারীসহ আটক হন এই নেতা। সে সময় হল প্রশাসন তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের হাতে তুলে দেয়। এর আগে ২০১৪ সালে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিকে পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় ছাত্রলীগ।
২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাহবাগের পিকক বারে মদ নিতে গিয়ে বন্ধ দোকান খোলার জন্য দোকানের কর্মচারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর কারণেই তাকে অব্যহতি দেয় সংগঠনটি। তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলেও জানা যায়। এমন কি মাদক মামলার আসামিও এই ছাত্রলীগের নেতা। শুধু চাঁদাবাজি, মাদক নয়, সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৮ সালে প্রটোকল দেওয়া নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনায় করা সংবাদ প্রকাশের জেরে ঢাকা টাইমসের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক নুর হোসাইন সাজ্জাদকে লাঞ্চিত করেন তিনি। এ ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকায় হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় কমিটি।
রবিবার মারধরের শিকার পলাশী মার্কেটের ব্যবসায়ী মাহবুবুল হক বলেন, রবিবার রাতে আমাকে শহিদুল ও মেহেদি চর-থাপ্পড় দেন। এরপর আমাকে আঘাত করার জন্য চাপাতি নিয়ে আসেন। পরে চাপাতি নিয়ে মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীকে চাপাতি দিয়ে আঘাত করতে গেলে আরেক ব্যবসায়ী শহিদুলকে ধরে ফেলেন। এরপর বাজারের সব ব্যবসায়ী মিলে তাদের দুজনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেই।
সানাউল্লাহ নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মেহেদী আমার দোকান থেকে আগরবাতি কিনে নেন। পরে আমাকে এসে বলেন- আগরবাতি জ্বলেনি, এখন আমাকে এর জন্য টাকা দিতে হবে। পরে আমাকে মারধর করলে ভয়ে তাকে দুই হাজর টাকা দিয়ে দেই।
উপস্থিত অন্যান্য ব্যবসায়ীরা বলেন, আমাদের সামনে ঈদ দেখে চাঁদার জন্য বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়েছে। তার কথামতো আমাদের দোকান বন্ধ ও খোলা রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়। আর তা যদি না করি তাহলে মারধর করার ভয় দেখায়। মূলত টাকা পেলেই তার মাথা ঠাণ্ডা থাকে, অন্যথায় মারধর করে।
সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেহেদী হাসান মাদকের বেশায় বুঁদ হয়ে থাকতো। আমরা তাকে প্রক্টরিয়াল টিমের হাতে তুলে দিই এবং হল প্রাঙ্গণে যাতে মাদক সাপ্লাই কিংবা মাদক সেবন করতে না পারে সে ব্যবস্থা করি। এরপরও ক্যাম্পাসে মাদকসেবন এবং মাদক সাপ্লাইয়ের কাজ করে সে। এ ছাড়া পলাশীসহ বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে।
পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মো. মাহবুব-উজ জামান গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে মেহেদী ও শহিদুল পলাশী কাঁচাবাজারে চাঁদাবাজি করতে যান। কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা একত্র হয়ে দুজনকে আটক করেন। তারা দুজনকে গণপিটুনি দেন। পরে তাদের চকবাজার থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। চিকিৎসার জন্য দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয় পুলিশ। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। চাঁদাবাজির অভিযোগে পলাশী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে চকবাজার থানায় মেহেদী ও শহিদুলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চকবাজার থানা-পুলিশ জানায়, এই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নব্বইয়ের গণআন্দোলনের ছাত্রনেতা শফী আহমেদ আর নেই
ভারতের ভিসা পেয়েছেন এমপি আনারের মেয়ে ডরিন
মৃত্যুর ৬ দিন পরও শেষকৃত্য হয়নি পি কে হালদারের মায়ের
জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির গভীর বন্ধন: ওবায়দুল কাদের