স্বজনপ্রীতিতে জর্জরিত লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চর মার্টিন ইউনিয়নের দক্ষিণ চর মার্টিন উচ্চ বিদ্যালয়। অভিযোগ উঠেছে, স্কুলটির তিনটি পদে প্রায় ১৫ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্য মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, প্রতিষ্ঠানটির আগের সভাপতি আহম্মদ উল্লাহ সবুজ ও বর্তমান সভাপতি বেলায়েত হোসেন মাহমুদ আপন ভাই। তাদের আত্মীয়রাই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালাচ্ছে।
তিনি জানান, স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার সভাপতির আপন মামা। অফিস সহায়ক মো. ইসমাইল সভাপতির বাল্যবন্ধু। নিরাপত্তা কর্মী এমরান হোসেন আগের সভাপতির শ্যালক। সহকারী শিক্ষক জয়নুল আবেদিন সভাপতির চাচা। অপর সহকারী শিক্ষক মো. নুর নবী চৌধুরীও তাই। এছাড়াও সহকারী গ্রন্থাগারিক মো. নুরুল কাওছার সভাপতির জেঠাতো ভাই, নৈশ্য প্রহরী মো. সোহেল সভাপতির চাচাতো ভাই।
মো. সাহাব উদ্দিনের অভিযোগ স্কুল অভিভাবকদের ভোটে দ্বিতীয় সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। অথচ কুমিল্লা বোর্ডের স্বাক্ষরিত প্যাডে তাকে তিন নম্বর সদস্য রাখা হয়।
চাকরিপ্রত্যাশী মো. মিরাজ হোসেন জানান, স্কুলের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তিনি অফিস সহায়ক পদে আবেদন করেন। কিছুদিন পরে স্কুল সভাপতির মামা মো. হারুন ডিলার চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৪ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দেওয়ার পর মো. মিরাজ হোসেন লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে জানতে পারেন মো. ইসমাইল নামে আরেকজনের অফিস সহায়ক পদে চাকরি হয়। এখন তিনি টাকা ফেরত চান।
স্থানীয়রা জানান, আহম্মদ উল্লাহ সবুজ তিন মেয়াদে স্কুল সভাপতি ছিলেন। এরপর তার বড় ভাই বেলায়েত হোসেন মাহমুদকে নতুন সভাপতি বানানো হয়। আহম্মদ উল্লাহ সবুজ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দায়িত্বে ছিলেন।
স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদ জেলা প্রশাসক, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষা বোর্ডে একাধিকবার সভাপতির বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ দেন। কিন্তু তা কৌশলে সমাধান করেন সভাপতি। তারা স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় এসব বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি বেলায়ত হোসেন মাহমুদ জানান, তাদের পরিবারের একাধিক লোক স্কুলে চাকরি করে এটা সত্য নয়। তারা স্কুলের উন্নয়নমূলক কাজ করছেন। কিছু কুচক্রী মহল হিংসাত্মাক মনোভাব নিয়ে তাদের প্রতিপক্ষ বানাচ্ছে। তারা কোনো অনিয়মের সাথে জড়িত নন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, কমিটি ও শিক্ষকরা অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে কাজ করবে। স্কুলের নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুদ্দিন মো. রেজা ও ডিজির প্রতিনিধি। তিনি (সভাপতি) শুধু নিয়োগ কমিটির সদস্য। তবে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অবগত নয় বলে চানান।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুদ্দিন মো. রেজা জানান, বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ বোর্ডের সিদ্ধান্তে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। যারা পরীক্ষায় ভালো করেছে তাদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
