সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রাজনৈতিক দলে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যের বিধান বাস্তবায়ন দাবি

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৪, ০৪:৫৭ পিএম

রাজনৈতিক দলগুলোতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যের বিধান বাস্তবায়নের দাবি তোলা হয়েছে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভায়।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ‘রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ: বিদ্যমান আইনি কাঠামো ও বাস্তবতা’ শীর্ষক মতবিনিময়সভায় বক্তারা এ দাবি করেন। ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মহসিন আলীর সভাপতিত্বে সভায় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শেরীফা কাদের, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য নাজমা আক্তার ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার।

সেলিমা রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় পর্যায়ে নারী নেতৃত্ব দৃষ্টিগোচর হলেও তৃণমূল পর্যায়ে নারীকে সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। রাজনৈতিক দলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারী এখনো পিছিয়ে রয়েছে।

নাজমা আক্তার বলেন, নারীদের সচেতনভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে।

শেরীফা কাদের বলেন, সমাজে নারীকে পিছিয়ে রাখা হলেও তাদের নিজেদেরকেও রাজনীতিতে অংশগ্রহণের জন্য এগিয়ে আসতে হবে স্বেচ্ছায়। বিভিন্ন কর্মশালা ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে হবে। নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে।

রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, পুরনো অনেক চিন্তা আমরা বাদ দিতে পারলেও নারীর সমানাধিকার বিষয়ে আমরা পুরনো ধারণা ত্যাগ করতে পারছি না। তার মানে কেউ বা কোনো গোষ্ঠী এ কারণে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার বলেন, গবেষণার ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম বা আদিবাসী নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। কভিডকালে নারী নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রগুলো দক্ষতার সঙ্গে মহামারী নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে, যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে মহসিন আলী বলেন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদে প্রথমবার যখন নারীরা সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন তখন যে উৎসাহ ছিল, পরবর্তীকালে সে উৎসাহে ভাটা পড়েছে। কারণ নির্বাচিত নারীদের যথাযথ সম্মান ও কাজের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

মতবিনিময়সভায় দেশের বিদ্যমান আইনি কাঠামো ও ১২ জেলা থেকে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন গবেষক ও জেন্ডার কনসালট্যান্ট সানাইয়া ফাহিম আনসারি। সভা সঞ্চালনা করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়ক ও উপ-পরিচালক কানিজ ফাতেমা।

গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনকালে সানাইয়া ফাহিম আনসারি বলেন, বাংলাদেশে নানা প্রতিবন্ধকতার পরও নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেলেও সার্বিক অসমতা ও বৈষম্যের কারণে এক্ষেত্রে নারীকে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত