টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠেছে বাংলাদেশ। ১৭ বছর পর এই পর্বে খেলবে লাল-সবুজরা। আগামী শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামবেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। সেই ম্যাচের আগে সাকিব আল হাসানদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ডেল স্টেইন। তার মতে, বিশ্বকাপ জয়ের সামর্থ্য রাখে বাংলাদেশ।
এবারের বিশ্বকাপে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই পেসার। সুপার এইটে ওঠা প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে ক্যারিবীয় দ্বীপেও তিনি উড়াল দিয়েছেন। প্রোটিয়া কিংবদন্তি সেন্ট ভিনসেন্ট বিমানবন্দরে পা রাখতেই মুখোমুখি হন বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের।
সেখানেই বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্স নিয়ে জানতে চাওয়া হয় সাবেক প্রোটিয়া পেসারের কাছে। বিভিন্ন প্রশ্নোত্তরের একপর্যায়ে তিনি টাইগার পেসার তানজিম হাসান সাকিবকে নিয়ে মুগ্ধতার কথা জানান।
টাইগারদের সামর্থ্য নিয়ে স্টেইন বলেন, ‘আমি মনে করি তাদের বিশ্বকাপ জয়ের সামর্থ্য আছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি তারা জিতবে না, আমি এক্ষেত্রে আরও ১-২টি দলকে এগিয়ে রাখব। তবে তাদেরও সুযোগ আছে। এটাই ক্রিকেটের সৌন্দর্য। সেমিফাইনালে ওঠে গেলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জয় থেকে মাত্র ২ ধাপ দূরে থাকবে। পিচ তাদের পক্ষে, যদি কন্ডিশন তাদের বোলারদের সহায়তা করে আর ভাগ্য পাশে থাকে… তাদের ফাস্ট বোলাররা সত্যিই ভালো করছে। স্পিনাররা তো সবসময় ভালো করছে।’
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের ৪ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বাংলাদেশের তানজিম সাকিব। বোলিং করেছেন ৪.৮০ ইকোনমিতে। তার প্রসঙ্গে স্টেইন বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ম্যাচে আমি মাঠে ধারাভাষ্যের কাজ করছিলাম, তখন কিছুটা কথা হয়েছে। তার গতি আছে। সুইং করতে পারে। ইয়র্কার, চেঞ্জ অব পেস সবই তার আছে। ওভার দ্য উইকেট বা রাউন্ড দ্য উইকেটেও দারুণ বোলিং করে।’
সাবেক প্রোটিয়া তারকা আরও যোগ করেন, ‘তাদের (বাংলাদেশ) এই অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাস আছে ম্যাচ জিততে পারে। ১২-১৫ আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে গেলে মনে হতো তারা এখনকার নেপাল দলের মতো। তারা এখন ম্যাচ জিতছে, বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষকে হারাচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলকেও হারাচ্ছে, তাদের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মেছে যে তারা জিততে পারে।’
সুপার এইটে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচ খেলবে ২১ জুন, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। টুর্নামেন্টে অন্যতম ফেবারিট এই দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে নাজমুল হোসেন শান্তদের প্রেরণা দিচ্ছে গ্রুপ পর্বে চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় হাতছাড়া মাত্র ৪ রানে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলার মাধ্যমেই নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাড়াচ্ছে বলেও মনে করেন স্টেইন।
